ওঁর ক্ষমা চাওয়া উচিৎ', কবীর সুমনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বললেন কুণাল ঘোষের
ওঁর ক্ষমা চাওয়া উচিৎ', কবীর সুমনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বললেন কুণাল ঘোষের
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে গায়ক কবীর সুমন ও একটি বাংলা টিভি চ্যানেলের এক সাংবাদিকের ফোনে কথপোকথন। এই ফোনকলের রেকর্ডিংয়ে কবীর সুমনকসেই সাংবাদিক, টিভি চ্যানেল, বাঙালি ও মাড়োয়ারি এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করতে শোনা গিয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো দ্বিধাবিভক্ত সোশ্যাল মিডিয়া এবং বুদ্ধিজীবীরা৷ কেউ বলছেন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এগুলি রাগ থেকে বলা আবার কেউ বলছেন এভাবে কদর্য ভাষায় আক্রমণ উচিৎ নয়৷ এবার কবীর সুমনের বক্তব্যের কড়া সমালোচেনা করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷

কী বলেছেন কুণাল?
শনিবার ফেসবুকে কুণাল লেখেন, 'যে অডিওটি ঘুরছে (সোশ্যাল মিডিয়াতে), সেটি যদি কবীর সুমনেরই হয়, তাহলে তা অতি আপত্তিকর এবং তীব্র প্রতিবাদযোগ্য। এর জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত, না চাইলে ব্যবস্থা হওয়া উচিত। জনপ্রিয় গায়ক বা প্রতিভাধর বুদ্ধিজীবী হলেই এসব বলা যাবে, এটা হতে পারে না।

কী বলছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ?
অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও কাউন্সিলর সজল ঘোষ শুধু কবীর সুমনের বক্তব্যের নিন্দায় করেননি সঙ্গে তিনি আইনি অভিযোগও দায়ের করেছেন৷ তিমি নিজেই একটি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, 'আজ বেলা ২.১৫ নাগাদ মুচিপাড়া থানায় কবীর সুমনের নামে FIR করা হবে।
স্থানীয় বিজেপির সমস্ত কার্যকর্তাকে উপস্থিত থাকার আবেদন জানাচ্ছি৷ উপস্থিত থাকবেন জেলা সভাপতি শ্রীকল্যাণ চৌবে মহাশয়জমায়েত সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।' তবে এছাড়াও নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সজল ঘোষ কবীর সুমনের বক্তব্যের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন৷

কবীর সুমনের বক্তব্য নিয়ে কী বলেছেন কবি শ্রীজাত?
'বিরোধীকে বলতে দাও' শিরোনামে কবি শ্রীজাত গতকাল একটি ফেসবুক পোস্ট লেখেন৷ এবং সেখানে তিনি লিখেছেন, 'শিল্প করলেই সকলের মাথা কিনে নেওয়া যায় না, এই শিক্ষা আমরা কোনওদিন পাইনি। শিল্পী হলেই যে-কারওর বাবা-মা তুলে চূড়ান্ত কুৎসিত কথা অবলীলায় উগরে দেওয়া যায় না, এই বোধও আমাদের কখনও হয়নি।আমরা শিল্পীকে সমস্ত ছাড় দিয়ে রেখেছি।
আমরা ছেড়ে দিতে শিখেছি, মেনে নিতে শিখেছি। কেননা, তিনি শিল্প করেন। তাই তিনি আমার মাথা কিনেছেন, আমার জীবন উদ্ধার করেছেন। তাই তিনি মঞ্চ থেকে নোংরা অঙ্গভঙ্গি করতেই পারেন, রাস্তায় মাতলামো করে কাউকে অকারণ চড় কষাতে পারেন, সগৌরবে গার্হস্থ্য হিংসায় অংশ নিতে পারেন, প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিতে পারেন, অনর্গল মিথ্যা বলতে বা লিখতে পারেন, এমনকী দাঙ্গা উসকে দিতে পারেন বা ধর্ষণের ভয় দেখাতে পারেন। কেননা তিনি জানেন, আমরা দুর্বল। আমরা কেউ একজনও ঘুরে দাঁড়িয়ে বলব না, ‘মোটেই বেশ করেননি, অন্যায় করেছেন। ক্ষমা চান। কাউকে অপমান করবার অধিকার আপনাকে শিল্প দেয়নি'।'

কী বলছেন কবীর সুমন?
অন্যদিকে এই সমালোচনার জবাবে কী বলছেন কবীর সুমন? শনিবার একটি ফেসবুক পোস্টে সপক্ষ সমর্থন করে কবীর সুমন আবারও লিখেছেন, এব্রাহাম লিনকন বলেছিলেন - 'কিছুর পক্ষে যুক্তি দিতে যেও না; তোমার বন্ধুদের তা দরকার পড়বে না; তোমার শত্রুরা তা বিশ্বাস করবে না। সুমন পোস্টে আরও যোগ করেছেন, 'সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম, শিল্পীর কোনও আলাদা স্বাধীনতা থাকতে পারে বলে মনে করি না। যে কোনও মানুষের যে অধিকার, তাদের অধিকার ততটাই। একটি বিশেষ চ্যানেল ও তার সাংবাদিকরা দিনের পর দিন যা করে যাচ্ছে তার জবাব দিয়েছি উপযুক্ত ভাষায়।'

সঙ্গেই সুমন আরও লিখেছেন,
সুরসম্রাজ্ঞীর অপমানের বিরুদ্ধে যে সাংবাদিক বৈঠক হয়েছিল সেখানে কোন চ্যানেলের কোন সাংবাদিক কী করেছে, বলেছে আমি ভুলিনি। সারা দুনিয়ায় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা তাদের ইচ্ছেমতো পথে চলে, যে কোনও উপায় নেয়। যার হাতে চ্যানেল কাগজ কিছু নেই সেও তার ইচ্ছেমতো উপায় নেবে।' এরপর সুমন আরও বেশকিছু কথা লিখেছেন৷ এবং শেষে লিখেছেন, 'ফোনে, হোয়াটস্যাপে স্বাভাবিকভাবেই আমি আক্রান্ত। এটাই হবার কথা। আরও হবে। আমার যায় আসে না। যা করেছি তা, দরকার হলেই, আবার করব।'












Click it and Unblock the Notifications