'কৌস্তুভের গ্রেফতারের বিরোধিতা করছি', সোশ্যাল মিডিয়াতে বিস্ফোরক কুণাল
কংগ্রেস নেতা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুতসিত আক্রমণ করেছেন সেজন্যে সুরও চড়িয়েছেন। এই অবস্থায় দলের বিপরীত পথেই হাঁটলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কার্যত সোশ্যাল মিডিয়াতে বিস্ফোরক পোস্ট তাঁর।
আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচীর গ্রেফতারি নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অনৈতিক ভাবে গ্রেফতারের দাবি কংগ্রেসের। যদিও এই ঘটনায় কার্যত পুলিশকেই 'সাবাসি' দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। একই সঙ্গে যেভাবে কংগ্রেস নেতা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুতসিত আক্রমণ করেছেন সেজন্যে সুরও চড়িয়েছেন। এই অবস্থায় দলের বিপরীত পথেই হাঁটলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কার্যত সোশ্যাল মিডিয়াতে বিস্ফোরক পোস্ট তাঁর।

প্রশাসনের পক্ষেই তৃণমূল নেতারা
কৌস্তভের গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক। শুধু তাই নয়, সকাল থেকেই কড়া ভাষায় কংগ্রেস নেতাকে আক্রমণ শানাতে শুরু করেন তৃণমূল মন্ত্রী-সাংসদরা। এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনের দাবি, প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে যেভাবে কুৎসিত ভাষায় ব্যক্তিগত স্তরে গিয়ে কৌস্তভ আক্রমণ করেছেন তা নিন্দানীয় বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতা। শুধু তাই নয়, দলের কাছে নম্বর বাড়াতেই এমন অশোভনীয় কাজ বলেও দাবি তাঁর। শান্তনু সেনের সঙ্গে কার্যত একমত অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা পার্থ ভৌমিক। তাঁর মতে, উনি একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। এখনই ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা।

কোথাও থামাটা প্রয়োজন ছিল মত মন্ত্রীর
অন্যদিকে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিনিয়ত অপমান করা হচ্ছে। কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল এই বিষয়টিকে নিজেদের অধিকার বলে মনে করে নিয়েছেন বলে মত শশী পাঁজার। এটা কখনই দিনের পর দিন চলতে পারে না। কোথাও থামাটা প্রয়োজন বলে মত রাজ্যের মন্ত্রীর। শুধু তাই নয়, যারা ভাবছেন কখনও মমতা বেগম তো কখনও এহেন মন্তব্য করে পাড় পেয়ে যাবেন এটা কখনই ক্ষমা যোগ্য নয়। কোথাও দড়ি টানতে হবে। আর সেজন্যে পুলিশ প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও মত শশী পাঁজার।

বোমা ফাটালেন তৃণমূলেরই আরেক মুখপাত্র
একদিকে যখন গোটা তৃণমূল কৌস্তুভের বিরুদ্ধে কার্যত গর্জে উঠছেন সেই সময়ে ফেসবুকে ব্যক্তিগত মত দিতে গিয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন তৃণমূলেরই আরেক মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারি ঠিক হয়নি। এতে বিরোধীরাই লাভ পাবে বলেও মত কুণাল ঘোষের। এমনকি এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সজল ঘোষের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। কীভাবে একটা ওয়ার্ড বিজেপি জিতে গেল।
এক নজরে ফেসবুকে যা লিখলেন কুণাল ঘোষ -
কৌস্তুভ বাগচির গ্রেপ্তার সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত।
কৌস্তুভ অন্যায় করেছে। মাতৃসমা মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে ওই ধরণের চরম কুৎসা বরদাস্ত করা যায় না।
আমাদের ছাত্রযুবরা কৌস্তভের অসভ্যতা বুঝে নিতে পারত।
কিন্তু পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার ঠিক হল না। এতে কৌস্তুভ প্রচার পাবে, বিরোধী শক্তির অশুভ আঁতাতের কুৎসিত রাজনীতির হাতিয়ার হবে, একাংশের মিডিয়ার পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারের মুখ হবে, কিছু মানুষের সহানুভূতি পাবে। গ্রেফতারকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবে তারা।
যেদিন পুলিশ সজলের বাড়ির দরজা ভেঙেছিল, আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। পরে প্রমাণিত হয়েছে আমার প্রতিবাদ সঠিক ছিল। লাভ হয়েছিল সজলের। মধ্য কলকাতায় একটি ওয়ার্ড জিতেছিল বিজেপি। সেদিন পুলিশি অভিযানের ধরণ ছিল ভুল।
আজও আমি কৌস্তুভের গ্রেফতারের বিরোধিতা করছি। এতে ওর এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক লাভ হবে।
কৌস্তুভ অন্যায় করেছে। ওর অপরিণত, অসৌজন্যের কথার প্রবণতা আছেই। কিন্তু তার জবাব রাজনৈতিকভাবে আমাদের ছাত্রযুবরা দিতে পারত। পুলিশি অভিযান ঠিক হল না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সজলের দরজা ভাঙার ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল।












Click it and Unblock the Notifications