সিবিআইয়ের আর্জি খারিজ, কুণাল ঘোষকে বিদেশ যাত্রার অনুমতি হাইকোর্টের
সিবিআইয়ের আর্জি খারিজ, কুণাল ঘোষকে বিদেশ যাত্রার অনুমতি হাইকোর্টের
সারদা মামলায় জামিন পাওয়ার ৬ বছর পর বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। অবশেষে অনুমোদন মিলল। সিবিআই সময় চেয়েছিল সাতদিন। সাতদিন পর হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিদেশ যাত্রার অনুমতি দিল।

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও অজয়কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেন। সে জন্য কিছুদিনের জন্য তাঁর পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিতে সিবিআইকে নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। বিচারপতিরা বলেন, মামলাকারী একজন সাংবাদিক। তিনি সিঙ্গাপুরে একটি পলিটেকনিক কলেজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চান। এতে তার পূর্ণ অধিকার আছে। তাই সিবিআই তাঁকে পাসপোর্টে ফিরিয়ে দিক।
তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ এই মর্মে কিছু শর্ত আরোপ করেছে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামী ১৬ জানুয়ারি বিদেশ যেতে পারবেন। ৩১ জানুয়ারি তার কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। হাইকোর্টের নির্দেশ, বিদেশ তেকে ফিরেই তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। তাঁকে ব্যক্তিগত ৫ লক্ষ টাকার বন্ডে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সারদা-কাণ্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছিলেন কুণাল ঘোষষ। তারপর ৬ বছর কেটে গিয়েছে। সারদা মামলায় জামিনে মুক্ত তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ হাইকোর্টের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ যাত্রা করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি ২ জানুয়ারি আবেদন করেন হাইকোর্টে। তাঁকে সিবিআইয়ের মতামত জানার জন্য ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআইকে এই মর্মে মতামত জানাতে ৮ দিন সময় দেন।
২০১৬ সালে সারদা মামলায় জামিন পেয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর জামিনে তখন শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। প্রথমে কুণাল ঘোষের রাজ্যের বাইরে যাওয়া উপরই নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরে রাজ্যের বাইরে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় হাইকোর্টের তরফে। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার উপর বিধিনিষেধ রয়েই যায়।
কুণাল ঘোষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সারদা মামলা তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের মতামত জানতে চেয়েছিল আাদালত। সিবিআই এ ব্যাপারে আদালতের কাছে তাঁদের মতামত জানাতে ৮ দিন সময় নেয়। ফলে কুণাল ঘোষের বিদেশ যাত্রার সিদ্ধান্ত আটকে ছিল। এদিন সিবিআই সরাসরি রাজি হয়নি। তারা আপত্তি জানিয়েছিল। এরপর কুণাল ঘোষের আইনজীবীর সওয়াল জবাবের পর বিচারপতি বলেন একজন সাংবাদিক হিসেবে তাঁর অধিকার আছে। তাই তাঁকে পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
৬ বছর পর হঠাৎ বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন কেন সে ব্যাপারে কুণাল ঘোষ আগেই বলেছিলেন, এতদিন বিদেশ যাওয়ার দরকার পড়েনি। তাই আবেদন করিনি। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে একটি আমন্ত্রণ এসেছে। তাই সেখানে যেতে চাই বলে আমি মহামান্য হাইকোর্টের কাছে এই আবেদন করেছি। আশা করি মহামান্য হাইকোর্ট সেই আবেদন রক্ষা করবে। এদিন সেই আবেদন মেনেই তাঁকে অনুমতি প্রদান করেছে আদালত।












Click it and Unblock the Notifications