দিলীপ ঘোষ-সুকান্ত মজুমদারদের সঙ্গে কেক কাটছেন কেন? প্রশ্নের উত্তর দিলেন কুণাল ঘোষ
দিলীপ ঘোষ-সুকান্ত মজুমদারদের সঙ্গে কেক কাটছেন কেন? প্রশ্নের উত্তর দিলেন কুণাল ঘোষ
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে একটি ছবি৷ যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি অনুষ্ঠানে কেক কাটছেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। অনুষ্ঠানে তাঁরই পাশে উপস্থিত রয়েছেন বঙ্গ-বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ এই ছবি সোশ্যালমিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার পয় যথারীতি এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ দু'দলের সমর্থকদের সমালোচনারও মুখে পড়তে হয়েছে কুনাল,দিলীপদের। এবার কেন এই ছবি তা নিয়ে ফেসবুক পোস্টে সাফাই দিলেন কুনাল ঘোষ।

ছবি নিয়ে কুণালের জবাব!
শনিবার ফেসবুকে ওই ছবিগুলি পোস্ট করে কুনাল লেখেন, 'একান্তই সামাজিক একটি সামাজিক অনুষ্ঠান এবং আমন্ত্রণরক্ষা। দুচারদিন আগে। তারপর গত ২৪ঘন্টায় এনিয়ে কিছু কৌতূহল শুনলাম। কোনো উৎসাহী একঝলক ভিডিও বাজারে ছেড়ে আরেকটু ফিসফাস বাড়িয়েছেন। এত জল্পনার কিছু নেই। নিজেই বলে দিচ্ছি। ছবিগুলি জোগাড় করতে একটু সময় লাগল।CTVN, CN news group এর ২৫ বছরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ ছিল। সারাদিনের কাজকর্ম সেরে রাতে পৌঁছই। ঘটনাচক্রে তখন সেখানে ছিলেন আরও দুই রাজনীতিবিদ। দিলীপ ঘোষ আর সুকান্ত মজুমদার। দিলীপদার সঙ্গে আগেই আলাপ ছিল। সুকান্তবাবুর সঙ্গে সামনাসামনি আলাপ হল। ওঁরা বনাম আমরা, লাগাতার লড়াই চলে। বিবৃতি, জনসভা, সর্বত্র। কিন্তু, ঐখানে অনুষ্ঠানে নিশ্চয়ই আমরা মারামারি করব না। স্বাভাবিক সৌজন্যের কথাবার্তা হয়। উদ্যোক্তারা আপ্যায়নে ত্রুটি রাখেননি। খিদেও পেয়েছিল। একটু খাই। এর মধ্যে কোথাও কোনো রাজনীতির মারপ্যাঁচ নেই।

আরও কী বললেন কুণাল?
এরপর কুণাল আরও লিখেছেন,' চ্যানেল কর্ণধার শুভাশিস দাস আমাদের কেক কাটতে অনুরোধ করেন। দিলীপবাবু বয়সে বড়। ওঁকে বলি কেক কাটতে। উনি পাল্টা সৌজন্যে আমাকে এগিয়ে দেন। আমরা চ্যানেল কর্ণধারকে কেক খাইয়ে দিই। তারপর তিনজন যে যার মত বিদায় নিই।
রাজনীতিতে যত বিরোধিতাই থাকুক, এই সামাজিক সৌজন্যবোধ আমি চিরকাল সমর্থন করি। পরদিন সকালেই টিভিতে দিলীপবাবু এবং আমার পারস্পরিক শিবিরকে আক্রমণ করে বিবৃতি চলেছে। রোজ চলছে। সেটাও একইরকম স্বাভাবিক এবং কর্তব্য।'

চ্যানেল সম্পর্কে কী বললেন কুণাল ঘোষ?
এরপর টিভি চ্যানেলটি সম্পর্কে কুনাল ঘোষ আরও লোখেন, ' সিটিভিএন এবং সিএন নিউজ এর কাজকর্ম বা নীতি সবসময় পছন্দ হয় না। আপত্তি থাকে। রেগে যাই। কিন্তু এ তো মিডিয়ার নিয়ম। তা বলে ওঁদের সঙ্গে দুদশকের বেশি পরিচয়, মাত্র এক ঘন্টার স্লট থেকে এক বঙ্গীয় শিল্পগোষ্ঠীর চ্যানেল গোষ্ঠী হয়ে ওঠার সাক্ষী থাকা অস্বীকার করব কী করে এবং কেন? ফলে টুকটাক যোগাযোগ থাকে। রেগে গেলেও বলি। আমন্ত্রণে যাই। এই আর কী! বাকিটা কে কীভাবে ভাবছেন তাঁর উপর।গণতান্ত্রিক পরিবেশ। স্বাধীনতা আছে।'

কিন্তু কুণালের একটি নিরীহ কেক কাটার ছবি নিয়ে এত বিতর্ক কেন?
২০২১ এর ২রা মে-এর পর ভোট পরবর্তী হিংসায় পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলায় বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। খুনের অভিযোগের পাশাপাশি ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগও করেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই দু'দলের সমর্থকরা কুনাল-দিলীপের ছবি পোস্ট করার সমালোচনা করে বলেছেন, 'রাজায় রাজায় লড়াই হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়!'

পুরো বিষয়টি নিয়ে কী বলছেন প্রবীন বিজেপি নেতা তথাগত রায়?
তথাগত রায় রবিবার একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'যাদের সঙ্গে রাজনৈতিক শত্রুতা, এমনকি প্রতিপক্ষতাও আছে, দল বেঁধে তাদের সঙ্গে বেশি আহ্লাদ করা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।এতে মুখ ফস্কে গোপন কথা বেরিয়ে যেতে পারে, নানা লোকে নানারকম অর্থ করতে পারে। এগুলো রাজনীতির প্রথম পাঠের মধ্যেই পড়ে।'












Click it and Unblock the Notifications