প্রথম তালিকা প্রকাশের পরেই তৃণমূলী বিক্ষোভ বাংলাজুড়ে! পিকের টিমের বিরুদ্ধে বোমা কৃষ্ণেন্দু'র
প্রকাশ করতে গিয়ে কার্যত ল্যাজেগোবরে শাসকদল। প্রার্থী নিয়ে শুরু জেলাজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। হতাশার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশ। এই অবস্থায় তৃণমূলের তরফে জানানো হয় যে প্রথম যে তালিকা সামনে এসেছে তা ভুয়ো। তাতে
১০৮ পুরসভা ভোটে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে কার্যত ল্যাজেগোবরে শাসকদল। প্রার্থী নিয়ে শুরু জেলাজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। হতাশার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশ। এই অবস্থায় তৃণমূলের তরফে জানানো হয় যে প্রথম যে তালিকা সামনে এসেছে তা ভুয়ো। তাতে কোনও অনুমোদন নেই।

এই অবস্থায় জরুরি বৈঠকে বসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্ব। একেবারে চূড়ান্ত গোপনীয়তার মধ্যে সেই তালিকা জেলা সভাপতিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে প্রথম তালিকার প্রকাশের পর থেকেই কার্যত আগুন জ্বলতে থাকে বাংলার বিভিন্ন। উত্তর থেকে দক্ষিন সর্বত্রই সেই ছবি ধরা পড়ে। জানা যায়, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর নাম নেই।
এমনকি বিজেপি থেকে এসেছেন এমন অনেকেই প্রার্থী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ কর্মীদের একাংশের। কার্যত প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কর্মীরা। বিটি রোডে টায়ার জেলে, আবার ট্রেন অবরোধ করেও বিক্ষোভ চলে।
জানা যায়, এদিন দীর্ঘদিন খড়দা স্টেশন অবরোধ করে রাখেন শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। যার জেরে প্রায় ঘন্টাখানেকেরও বেশী সময় ধরে স্তব্ধ হয়ে যায় শিয়ালদহ মেন লাইনের ট্রেন চলাচল। অন্যদিকে কামারহাটি এলাকাতেও একই ছবি। প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তষ। একেবারে বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ধরে চলে কর্মীদের বিক্ষোভ। উল্লেখ্য এবার কামারহাটিতে প্রার্থী করা হয়েছে মদন মিত্রের পুত্রবধুকে।
তবে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মদন জানিয়েছেন, খুব ভালো প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ন না দেখে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বুঝিয়ে দিয়েছেন কীভাবে জাতীয় দল চলে। তবে সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয় বলেই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দাবি বিধায়কের। অন্যদিকে শান্তিপুর শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে উৎপল সাহা কে তৃণমূলের টিকিট দেওয়া নিয়ে বিক্ষোভ এলাকার তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। তাদের দাবি, দল কোনভাবেই তাদের সঙ্গে শলা-পরামর্শ না করেই টিকিট দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, এমন এক মানুষকে টিকট দেওয়া হয়েছে যে বিগত চার বছরের মধ্যে কোনভাবেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। বরং গত বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীকে জয় করে নিয়ে আসার মূল কান্ডারী বিপ্লব বিশ্বাস এর নাম আলোচিত হলেও শেষ মুহূর্তে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বিপ্লব বিশ্বাসের জন্যেই তৃণমূল এখানে রয়েছে। আসানসোলেও শুরু হয়েছে তৃণমূলের বিক্ষোভ। আরামবাগের ১২ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের। আরামবাগ মেদিনীপুর ও আরামবাগ বাঁকুড়ার রাজ্য সড়ক টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ-বিক্ষোভ। যার জেরে তীব্র যানজট।
অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির বাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মীদের। কাঁথি পুরসভার প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ কর্মীদের। বিজেপি থেকে আসা নেতাদের প্রার্থীদের করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।
শুধু দক্ষিন নয়, উত্তরেও ছবিটা এক। মালদহ পুরসভার প্রার্থী নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি। তিনি বলেন, বিজেপি থেকে সদ্য যোগ দিয়েছেন কিংবা এখনও বিজেপিতে আছে এমন ব্যক্তিদের প্রার্থী করা হয়েছে। আর এই কাজের জন্যে পিকের টিমের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। বলেন, যে এজেন্সিগুলি এখানে সার্ভে করতে নেমেছিল তাঁরাই এই তালিকা তৈরি করেছে। যদিও জেলা নেতৃত্ব এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে মানবাজারেও ছবিটা এক। তবে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পর কি অবস্থা তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনেক রাত পর্যন্ত সেই তালিকা জেলা সভাপতিদের কাছে এক এক করে পাঠানো হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications