করোনা আবহে পুরভোট কীভাবে হবে? রাজ্য-কমিশন দায় ঠেলাঠেলির জেরে রায়দান স্থগিত রাখল আদালত
করোনা আবহে পুরভোট কীভাবে হবে? রাজ্য-কমিশন দায় ঠেলাঠেলির জেরে রায়দান স্থগিত রাখল আদালত
করোনা আবহের মধ্যে রাজ্যের চার পুরসভা কেন্দ্রীয় কীভাবে ভোট হবে ? কে দায়িত্ব নেবে। এই নিয়ে আদলতে দায় ঠেলাঠেলি চলল রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তার জেরে স্থগিত হয়ে গেল রায়দান। পুরভোট নিয়ে রায়দান স্থগিত রাখল আদালত।

পুরভোট কীভাবে
করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিয়েছে দেশে। গত মে মাসের পর একদিনে রেকর্ড সংক্রমণ হয়েছে দেশে। একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষের মত মানুষ। মে মাসের পর এই প্রথম একদিনে একসঙ্গে এতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে রাজ্যের চার পুরসভায় ভোট হবে তা জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের এজলাসে চলছিল শুনানি। কিন্তু সেরকম ভাবে দায়িত্ব নিলেন না কেউ।

দায় ঠেলাঠেলি রাজ্য কমিশনের
এই বিপুল করোনা সংক্রমণের মধ্যে ভোট হলে তা যে আরও বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ প্রার্থীদের প্রচার হবে। তাতে জনসমাগম বাড়বে। সেক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণ আরও দ্রুত হারে বাড়তে শুরু করবে। যদিও প্রধানবিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ৯৮ শতাংশ প্রথম এবং ৭২ শতাংশ ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ় শেষ হয়ে গিয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, 'রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার করছেন প্রচুর মানুষ নিয়ে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এত লোকের জমায়েত হলে করোনা আরও বাড়বে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভিড় দেখা যাচ্ছে। যদি এই অবস্থায় কমিশন ভোট বন্ধ না করে, কোর্টের উচিত নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া।'

কী জানাল কমিশন
মামলাকারীর দাবি এবং অভিযোগ শোনার পরে পাল্টা কমিশনের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র আদালতকে জানান, 'ভোটের দিন ঠিক করেছে রাজ্য সরকার।' প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব জানতে চান, 'কমিশন কী ভাবছে এই পরিস্থিতি নিয়ে?' তার উত্তরে কমিশনের আইনজীবী বলেন, 'এই নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে হবে।' ঠিক তার পরেই রাজ্যের আইনজীবী সম্রাট সেন বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনই প্রাথমিকভাবে দিন ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকার তাদের মতামত জানিয়েছে। ভোট পিছোতে হলে কমিশনের আইন প্রয়োগ করে সেটা করতে পারে।' তার পরেই যে পুর এলাকায় ভোট হবে সেই সব পুর এলাকার ভ্যাকসিনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী।

রায়দান স্থগিত
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, আসানসোল পুরসভা এলাকায় ১৬.০৪ শতাংশ সংক্রমণ হয়েছে। সেখানে প্রথম ডোজ ৯৮ শতাংশ, দ্বিতীয় ডোজ ৯৫ শতাংশ মানুষের হয়ে গিয়েছে। ৯ শতাংশ সংক্রমণ হয়েছে চন্দনগরে। বিধাননগরে দুটি ডোজ হয়ে গিয়েছে ১০০ শতাংশ বাসিন্দারই। ১৯.০৫ শতাংশ সংক্রমণ শিলিগুড়িতে। সেখানে ১০০ শতাংশ প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৯২ শতাংশ বাসিন্দা। রাজ্য সরকার এবং কমিশনের এই দায় ঠেলাঠেলির জেরে শেষ পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয় রায়দান।












Click it and Unblock the Notifications