'দুর্নীতির মাথা কে?' নাম জানতে প্রয়োজনে সুবীরেশকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বললেন বিচারপতি
সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে নিয়ে কড়া নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে যুক্ত করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই দুর্নীতির মাথা কে তার নাম বলতে হবে সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে। আদালতে পর্যবেক্ষণে বলেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি নাম বলতে ভয়পেলে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে আদালতে বলেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

সুবীরেশকে যুক্ত করার নির্দেশ
এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের। শুক্রবার ১৯১১ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সুবীরেশ ভট্টাচার্যকেও এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানিয়েছেন, এতো বড় একটা দুর্নীতি অথচ তাতে সুবীরেশ ভট্টাচার্যের কোনও যোগ থাকবে না এটা হতে পারে না। তাই সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে এই মামলায় যুক্ত করতে হবে। কারণ তার আমলেই এই সব নিয়োগ গয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা
নিয়োগ দুর্নীতিতে যে সুবীরেশ ভট্টাচার্যের উপরেও কেউ রয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এই দুর্নীতির মাথা কে তার নাম বলতে হবে। শুক্রবার আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, সেই মাথার নাম বলতে হবে সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে। না হলে তিনি দোষী বলে মনে করা হবে। যদি নাম বলতে সুবীরেশ গঙ্গোপাধ্যায় ভয় পান তাহলে কেন্দ্রীয় বািহনী দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও বলেছেন বিচারপতি। এদিন হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, প্রয়োজনে সুবীরেশ ভট্টাচার্যের পরিবারকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এর আগে কখনও বিচারপতিকে এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়নি। যা নজিরবিনীন বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারবেন না
এদিন পর্যবেক্ষণে আরও একটি মন্তব্য করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন যতদিন না সুবীরেশ ভট্টাচার্য নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারছেন ততদিন তিনি তাঁর স্নাতোকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারবেন না। অর্থাৎ তাঁর ডিগ্রি তিনি কোনও কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না যতদিন না নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারছেন। এর আগে কখনও এতটা কড়া নির্দেশ বিচারপতি দেননি বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনে এই মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও জেরা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

১৯১১ জনের চাকরি বাতিল
এদিন গ্রুপ ডি মামলায় ১৯১১ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। ওএমআর শিটে বিকৃতির প্রমাণের পরেই এই নির্দেশ। এই ১৯১১ জন নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ না করা পর্যন্ত কোনও সরকারি চাকরিতে বসতে পারবেন না। এবং তাঁদের ধাপে ধাপে বেতনের টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications