Sandeshkhali: অবশেষে 'বাঘ বন্দি', শাহজাহান শেখ নাকি চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করেছে, প্রকাশ্যে অবাক করা তথ্য
অবশেষে বাঘবন্দি খেলা সাঙ্গ হল। মিনাখাঁ থেকে ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেশকালির বাঘ শাহজাহান শেখকে। তারপরে বসিরহাট আদালতে পেশ। এবং ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত। তদন্ত শুরু করেছে CID। সঙ্গে সঙ্গে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শাহজাহান শেখকে।
একেবারে বাঘের মতোই আদালতে ঢুকতে দেখা গিয়েছে শাহজাহান শেখকে। সাদা পোশাকে রীতিমতো হাত নাড়তে নাড়তে কোর্ট রুমে ঢুকেছেন সন্দেশখালির বাঘ। কোনও পুলিশ কনস্টেবলর সাহস হয়নি তাঁর হাত ধরারও। এতোটাই দাপুটে এই নেতা যে পুলিশও হাত ধরতে ভয় পাচ্ছে।

এদিকে শোনা যাচ্ছে আদালতে নাকি চাঞ্চল্যকর স্বীকারক্তি করেছেন শাহজাহান শেখ। পুলিশ সূত্রে খবর শাহজাহান শেখ নাকি স্বীকার করেছেন ইডির উপর হামলার ঘটনায় তাঁর প্ররোচনা বা ইন্ধন ছিল। রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি শাহজাহান শেখের নাম জানতে পারে। রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ নেতা ছিলেন শাহজাহান শেখ। তাঁর বাড়িতে সরবেড়িয়ায় তল্লাশি গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। গত ৫ জানুয়ারির ঘটনা। সেখানেই প্রবল ভাবে আক্রান্ত হন তাঁরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই মারধর করা হয় ইডি আধিকারীকদের।
তারপরে থেকেই পলাতক ছিলেন শাহজাহান শেখ। কোথায় রয়েছেন তিনি তার হদিশ নাকি পুলিশের কাছেও ছিল না। পুলিশও নাকি শাহজাহান শেখকে। একে একে প্রকাশ্যে আসতে থাকে তাঁর কীর্তি। শাহজাহান শেখ এবং তাঁর দলবল যেভাবে সন্দেশখালির গ্রামগুলিতে দাপিয়ে বেড়াতেন সেটা প্রকাশ্যে চলে আসে। গ্রামের মহিলারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন। গ্রেফতার হয়েছেন শাহজাহান শেখের একাধিক সাগরেদ। কিন্তু শাহজাহান শেখকে কিছুতেই গ্রেফতার করা যাচ্ছিল না।
সন্দেশখালি শান্ত করতে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার পর্যন্ত পর পর ২ দিন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সন্দেশখালিতে রাতও কাটিয়েছিলেন তিনি। এমনকী গ্রামবাসীদের আস্থা ফেরাতে তিিন নিজে সেখানে গিয়েছিলেন। ৫৫ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ৫৬ দিনের দিন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তারপরেই সাংবাদিক বৈঠক করে দক্ষিণবঙ্গের এডিজি ইডি কেন গ্রেফতার করল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত ২ দিন কলকাতা হাইকোর্টও শাহজাহান শেখকে গ্রেফতারির নির্দেশ দেয়। এবং শাহজাহান শেখকে গ্রেফতার করা হয়নি কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেিছলেন প্রধান বিচারপতিও। কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড দাবি করেছিলেন আদালতের স্থগিতাদেশের কারণেই গ্রেফতার করা যাচ্ছিল না শাহজাহান শেখকে। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণেই পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারছে না। তারপরেই আদালত জানিয়ে দেয় ইডি-সিবিআই-রাজ্য পুলিশ যেকেই গ্রেফতার করতে পারে শাহজাহান শেখকে।
অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করে সন্দেশখালির তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ১৪৭( দাঙ্গা বাঁধানো), ১৪৯ ( ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা করা), ১৪৯ (বেআইনি জমায়েত), ৩০৭ ( খুন), ৩৩৩( সরকারি কর্মীর উপর হামলা করা), ৩৯২ ( ডাকাতি) ধারায় মামলা জায়ের করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications