সস্ত্রীক বেচারামের মোট সম্পত্তি কিনা প্রায় ২ কোটি টাকা! এক নজরে কি কি রয়েছে তাঁর
সিন্ধুর আন্দোলন! একটা সময় এই আন্দোলনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছিল। জোর করেজমি নেওয়া যাবে না, অনিচ্ছুক কৃষকদের পাশে সেই সময় দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী দিনের পর দিন অনশন চালিয়ে গিয়েছিলেন। ন
সিঙ্গুর আন্দোলন! একটা সময় এই আন্দোলনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছিল। জোর করেজমি নেওয়া যাবে না, অনিচ্ছুক কৃষকদের পাশে সেই সময় দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী দিনের পর দিন অনশন চালিয়ে গিয়েছিলেন। নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েই আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন বেচারাম মান্না।
ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই সময় তাঁর পাশে থেকে লড়াই করেছেন এমন সমস্ত নেতাকে যোগ্য সম্মান দিয়েছেন মমতা। বিধায়ক করেছেন। এবারও টিকিট দিয়েছেন। যদিও টিকিট না পাওয়াতে এবার বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়েছেন সিঙ্গুর তথা রাজ্য রাজনীতিতে 'মাস্টারমশাই' বলে পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। টাফ ফাইট।

সম্পত্তির নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে বেচারাম
হলফনামায় যে হিসাব বেচারাম মান্না দিয়েছেন তা দেখলে হয়তো অনেকেই চমকে যাবেন। কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামায় বেচারাম জানিয়েছেন, তাঁর হাতে মাত্র ১৮ হাজার ৪২৫ টাকা নগদ রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে ১৪ হাজার ৭৭০ টাকা। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, এসবিআই এবং এইচডিএফসি মিলিয়ে মোট ৫টি সেভিংস অ্যাকাউন্টে রয়েছে। আর তাতে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪ টাকা রয়েছে। এমনটাই হলফনামায় জানিয়ছেন বেচারাম মান্না। তাঁর স্ত্রীর ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে ৩ লাখ ৯ হাজার ৬১১ টাকার একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে রয়েছে মোট ৭ লাখ ১২ হাজার ৬৩৬টাকা।

একাধিক গাড়ি
ব্যাঙ্কে একাধিক আমানত তো রয়েছেই, গাড়ির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তিনটি গাড়ি রয়েছে। হলফনামায় বেচারাম জানিয়েছেন, তাঁর একার নয়, স্ত্রী এবং তাঁর মিলিয়ে এই গাড়িগুলি। একটি গাড়ি প্রথম তিনি কিনেছিলেন বলে জানিয়েছেন বেচারাম। ২০১৬ সালে দাম নিয়েছিলন ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এর আগে একটি পুরনো হন্ডা সিটি গাড়ি কিনেছিলেন তিনি। তার বর্তমান মূল্য এখন ১০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে ১৯৯৯ সালে কেনা একটি গাড়ির উল্লেখ রয়েছে হলফনামায়। যার মূল্য এখন ১৪ হাজার টাকা।

গহনা করেছেন দেখার মতো
গয়নাও কম নেই তাঁদের। হলফনামায় বেচারাম যা জানিয়েছেন তাতে তাঁর কাছে অর্থাৎ প্রার্থীর কাছে ১ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গয়না রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে তাঁর থেকে এগিয়ে রয়েছেন স্ত্রী। স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গয়না রয়েছে। এ ছাড়া আসবাব এবং অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যা রয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৬০ টাকার এবং স্ত্রীর রয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৫ টাকার। বেচারামের মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩৫ লাখ ১৯ হাজার ৩২৯ টাকা এবং স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৩ লাখ ২২ হাজার ৩১০ টাকা।

বেচারাম এবং স্ত্রীর নামে একাধিক জমি রয়েছে
গাজিপুর এবং বাজেমেলিয়ার চাষের জমি রয়েছে। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে জমি দু'টি মোট ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন তিনি। এখন জমি দু'টির দাম বেড়ে হয়েছে ৩২ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৪ টাকা। গাজিপুরে তাঁর স্ত্রীর নামে দু'টি জমি রয়েছে। যেগুলো তিনি যথাক্রমে মা এবং বোনের থেকে উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন। এমনট হলফনামাতে জানিয়েছেন বেচারাম। তার মূল্য ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ১০২ টাকা। এ ছাড়া গাজিপুরেই ৫ শতকের একটি বসত জমি, ১ শতকের পুকুর রয়েছে। এখন যার দাম ২০ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৪ টাকা।

রয়েছে আরও সম্পত্তি
গাজিপুরে তাঁর স্ত্রীর নামে ০.০৪৭ শতকের একটি বাস্তু জমি রয়েছে। যার দাম এখন ১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া বেচারামের নামে ১৪৮০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাটের উল্লেখ রয়েছে হলফনামায়। যা তিনি পারিবারিক সূত্রে পেয়েছেন। তার মূল্য এখন ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮০ টাকা। অর্থাৎ ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মালিক বেচারাম এবং তাঁর স্ত্রী ৩৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬০২ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। বর-অস্থাবর মিলিয়ে বেচারামের মোট সম্পত্তি ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৭ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৩ লাখ ১৮ হাজার ৯১২ টাকা। তবে ১০ লাখ ২২ হাজার ৭০৩ টাকার গৃহ ঋণ রয়েছে এবং৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪০ টাকার গাড়ি ঋণ রয়েছে বেচারামের।












Click it and Unblock the Notifications