২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে হুগলি লোকসভা কেন্দ্র একনজরে
আজ হুগলি লোকসভা কেন্দ্র আমাদের আলোচনার বিষয়। ২,১৩৭৩১০ সংখ্যক মানুষের বসতি রয়েছে হুগলি নদীর তীরের এই ঐতিহাসিক এলাকায়।
আজ হুগলি লোকসভা কেন্দ্র আমাদের আলোচনার বিষয়। ২,১৩৭৩১০ সংখ্যক মানুষের বসতি রয়েছে হুগলি নদীর তীরের এই ঐতিহাসিক এলাকায়। পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশদের উপনিবেশের একাধিক স্মৃতি বুকে নিয়ে হুগলি এগিয়ে চলেছে নিজের ছন্দে। রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক এই এলাকার বর্তমান সাংসাদ তৃণমূলের ডক্টর রত্না দে নাগ। তৃণমূল এই এলাকার ক্ষমতায় আসার আগে বহুদিন ধরে হুগলি লোকসভা কেন্দ্র ছিল বামেদের দখলে। যদিও লোকসভা নির্বাচনের ইতিহাস বলছে প্রথমের দিকে হুগলি থেকে জয়ী হন অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার নেতা এন সি চট্টোপাধ্যায়। তারপর দীর্ঘদিন ধরে চুঁচুড়া থেকে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায় উড়েছে বামেদের লাল পতাকা। এরপর আসে 'পরিবর্তন'।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী এখানে ডক্টর রত্না দে নাগ। অন্যদিকে বিজেপির দলীয় কোন্দলের পর প্রার্থী হিসাবে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। বামেরা এইবারের ভোটেও প্রদীপ সাহাকে প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরেছে। সবমিবলিয়ে আপাতত হুগলির ভোটরণাঙ্গণ জমজমাট।

১৯৫৭ সালের নির্বাচন থেকে ২০০৪সালের নির্বাচন, এই সময়ের মধ্যে কেবল একবারই কংগ্রস ছিনিয়ে নিয়েছিল এই আসন। তবে ১৯৮৪ সালের সেই নির্বাচনের আগে বা পরে বেশিরভাগ সময়েই এই এলাকা ছিল বামেদের দখলে। সিঙ্গুর ইস্যু থেকে ডানলপ কারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি একাধিক বিষয় এখনও প্রভাব ফেলে এলাকার ভোটদাতাদের মধ্যে। সাম্প্রতিককালে এলাকায় মানুষের আস্থা জিতে নিয়ে পর পর দু ' বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন ডক্টর রত্না দে নাগ। গত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সিপিএম-এর প্রদীপ সাহাকে একলক্ষেরও বেশি ভোটে পরাস্ত করেন তৃণমূলের এই সাংসদ।

উল্লেখ্য, হুগলির গ্রামের দিকের ভোটর শতাংশ ৫৮.৩৪, অন্যদিকে শহরের ভোট শতাংশ ৪১.৬ । শেষবারের সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হুগলিতে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৩ শতাংশ। এখানে মহিলা ভোটারদের সংখ্যা ৬৫১,৫০৪ জন। অন্যদিকে পরিসংখ্যান বলছে পুরুষ ভোটারদের সংখ্য়া ৬৯৭৩৬৬।


চাকরির সংস্থান , এলাকার বেড়ে চলা অপরাধের ঘটনা,এরকম একাধিক ইস্যু হুগলির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এমন এক পরিস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতে আদৌ বাম বা বিজেপি থাবা বসাতে পারবে কি না, তার উত্তর তোলা রয়েছে ভোটারদের হাতে।












Click it and Unblock the Notifications