আর ফিরে আসবে না খোকন! চার বছরের আশার চির সমাধি তেহট্টের সিকদার পরিবারে
৩৯ জনের এই তালিকায় ছিলেন নদিয়ার খোকনের নামও। এদিন সংসদে বিদেশমন্ত্রীর ঘোষণার পর নদিয়ার তেহট্টেও নেমে এল শোকের ছায়া।
কেটে গিয়েছে চার-চারটি বছর। ফিরে আসেনি বাড়ির ছেলে। এতদিন আশায় বুক বেঁধেছিল পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবরা। কিন্তু তাঁদের সব আশার সমাধি হল মঙ্গলবার। ২০১৪ সালে ইরাকে কাজ করতে যাওয়া ৩৯ জনের কেউ-ই আর বেঁচে নেই। বেঁচে নেই খোকনও। কেননা ৩৯ জনের এই তালিকায় ছিলেন নদিয়ার খোকনের নামও। এদিন সংসদে বিদেশমন্ত্রীর ঘোষণার পর নদিয়ার তেহট্টেও নেমে এল শোকের ছায়া।

নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা খোকন সিকদার। ইরাকে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ। ৩৯ জনই অপহৃত হয়েছিলেন বলে খবর এসে পৌঁছেছিল দেশে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। আর বেশি কিছু খবর পাওয়া যায়নি। শেষমেশ তাঁদের ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় এসে গেল। তাঁরা আর কেউ বেঁচে নেই। মোসুলে আইএস জঙ্গিদের হাতে গুম খুন হয়েছেন তাঁরা।
আর এই ঘোষণাতেই যাবতীয় স্বপ্ন, আশার পরিসমাপ্তি হল। খোকনের এই মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তেহট্টের বাড়িতে উঠেছে কান্নার রোল। খোকন আর নেই। খোকন আর কোনওদিন ফিরে আসবে না, এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। পাড়া-প্রতিবেশীরাও শোকস্তব্ধ। খোকনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েকমাস আগেই পরিবারের সদস্যদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখনও তাঁরা বুঝতে পারেননি কী খবর নিয়ে আসতে চলেছে ওই রক্তের নমুনা।
খোকনের স্ত্রী নমিতা জানান, খোকন যখন কাজে গিয়েছিল, তখন তাঁর ছেলের বয়স মাত্র এক। আজ সে পাঁচ বছরের। বাবাকে আর দেখা হল না তার। আর খোকনই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্দজনকারী সদস্য। তাঁকে হারিয়ে ভেসে যেতে বসেছে এই সংসার। দেহগুলি ফেরত আনতে ইরাকে য়াচ্ছেন ভিকে সিং। কবর থেকে উদ্ধারের পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা হয়েছে দেহ।












Click it and Unblock the Notifications