খাগড়াগড় কাণ্ডে মাস্টারমাইন্ড সহ গ্রেফতার ৬ জঙ্গি, নাশকতার ছক বানচাল, পুজোর আগে বড় সাফল্য এসটিএফের
কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর :খাগড়াগড়কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জবিরুল ইসলাম-সহ ছয় জেএমবি-জঙ্গিকে গ্রেফতার করল এসিটিএফ। রবিবার দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাদের। উত্তর-পূর্ব ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল জেএমবি-র এই জঙ্গিরা। সেই নাশকতার ছক বানচাল করে বড় ধরনের সাফল্য পেল এসটিএফ। ধৃতদের মধ্যে ৩ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। [বর্ধমান বিস্ফোরণ : জেএমবির পুনরুত্থানে ভারতের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে]
ধৃতরা সবাই বাংলাদেশের জামাত-উল মুদাহিদিনের সক্রিয় সদস্য। তাদের কাছ থেকে ডিটোনেটর, আইইডি ও অন্যান্য বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ৫০ হাজার টাকার জালনোটও। এর ফলে খাগড়াগড়কাণ্ডে বাংলাদেশি জঙ্গি-যোগ আরও স্পষ্ট হল। ট্রানজিট রিমান্ডে ছয় জঙ্গিকেই নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতায়। গোয়েন্দাদের কাছে গোপন খবর ছিল, উত্তর-পূর্ব ভারতে ঘাঁটি গেড়েছে জামাত জঙ্গিরা। সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে খাগড়াগড়কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জবিরুল। মূলত তাকে পাকড়াও করতে শিলচরে ফাঁদ পাতে এসটিএফের গোয়েন্দারা। [বর্ধমান বিস্ফোরণের অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে দক্ষিণ ভারতে!]

সেই জালে রবিবার রাতেই ধরা পড়ে যায় জবিরুল। এরপর শুরু হয় দফায় দফায় জেরা। তাকে জেরা করেই অন্যান্য জঙ্গির খোঁজ পান গোয়েন্দারা। তাঁরা জানতে পারেন, বড়সড় হামলার ছকও রয়েছে জঙ্গিদের। জঙ্গিরা উত্তরপূর্ব ভারতে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। দক্ষিণ ভারতেও হামলার ছক ছিল তাদের। জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটির খবর পেয়েই রাতে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তাদের ছক বানচাল করে দিতেও সমর্থ হন গোয়েন্দারা। [বর্ধমান বিস্ফোরণে কীভাবে টাকার পাচার হয়েছিল!]
অসমের শিলচরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ ও বসিরহাট থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ডিটোনেটর, আইইডি। উৎসবের মরশুমের আগে এটা পুলিশের বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই পাঁচজন জঙ্গি ওয়ান্টেড ছিল এসিটিএফের কাছে। এসটিএফের এক শীর্ষ আধিকারিক সাংবাদিক সম্মেলনে সোমবার জানান, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও এদের নেটওয়ার্ক খুব স্ট্রং। এবার অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতে এরা নাশকতার ছক কষেছিল। [সারদা কেলেঙ্কারি ও বর্ধমান কাণ্ডের যোগসূত্র পেল আনআইএ]
তিনি জানান, জবিরুলকে জেরা করে যে পাঁচজন ধরা সম্ভব হয়েছে, তারা হল মৌলনা ইউসুফ ওরফে আবু বক্কর, শদিদুল ইসলাম, মহম্মদ রুবেল ওরফে রফিক, আজাদ ও আনোয়ার হুসেন ফারুক। আবু বক্কর ছিল পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গি ইউনিটের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড। শদিদুল উত্তর-পূর্ব ভারতের জেএমবি প্রধান। আজাদ ছিল আইইডি-বিশেষজ্ঞ। ধৃতদের প্রত্যেকেই খাগড়াগড়-কাণ্ডে জড়িত। পুলিশ এদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে জেরা শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications