গণনা শুরু! আজ রাজ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ
বৃহস্পতিবার গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে সাত দফায় রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে সাত দফায় রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে। প্রায় সাত দফাতেই রাজ্যে কোথাও না কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে খারাপ সম্পর্কের নজিরও তৈরি হয়েছে।

প্রথম দফা
কোচবিহার
২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী রয়েছিলেন তৃণমূলের রেণুকা সিনহা, জয়ের ব্যবধান ছিল ৮৭,১০৭ ২০১৯-এ এই কেন্দ্রের প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূলের পরেশ অধিকারী, বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক, কংগ্রেসের প্রিয়া রায় চৌধুরী এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের গোবিন্দ রায়।
একসময়ে ফরওয়ার্ডব্লকের শক্ত ঘাঁটিতে ২০১৪ সালে জয়ী হয় তৃণমূল। এরপর জয়ী সাংসদের মৃত্যুর পর ২০১৬-র উপনির্বাচনেও জয়ী হয় তৃণমূল। তবে উপনির্বাচন থেকে এই কেন্দ্রে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি।

দ্বিতীয় দফা
দার্জিলিং
২০১৪-র নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া, জয়ের ব্যবধান ছিল ১,৯৭,২৩৯।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, বিজেপির রাজু সিং বিস্ত, কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার, তৃণমূলের অমর রাই এবং সিপিএম-এর সমন পাঠক।
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় বিভাজনের কারণে এবারের নির্বাচনে এই আসনে জয় পাওয়া বিজেপির পক্ষে বেশ কঠিন। গোর্খা জনমুক্তি
মোর্চার সমর্থনেই ২০০৯ এবং ২০১৪-র নির্বাচনে এই আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি।
রায়গঞ্জ
২০১৪-র নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম-এর মহঃ সেলিম, জয়ের ব্যবধান ছিল ১৬৩৪।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন কংগ্রেসের দীপা দাশমুন্সি, তৃণমূলের কানাইয়ালাল আগরওয়াল, সিপিএম-এর মহঃ সেলিম এবং বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরী।
২০১৪-র নির্বাচনে রাজ্য থেকে সিপিএম যে দুটি আসনে জিতেছিল, তাদের মধ্যে একটি। মহঃ সেলিম পরারিজ করেছিলেন দীপা দাশমুন্সিকে। ১৯৯৯ এবং ২০০৪ সালে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

তৃতীয় দফা
জঙ্গিপুর
২০১৪ সালের এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। ব্যবধান ছিল ৮১৬১ ভোট।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, কংগ্রেসের অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, বিজেপির মাফুজা খাতুন, সিপিএম-এর জুলফিকর আলি এবং তৃণমূলের খলিলুর রহমান। এই আসন থেকে ২০০৪ এহং ২০০৯ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।
মালদহ উত্তর
২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নুর, ব্যবধান ছিল ৬৫, ৭০৫ ভোট।
২০১৯ সালে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থীরা হলেন, কংগ্রেসের ঈশা খান চৌধুরী, তৃণমূলের মৌসম বেবজির নুর, সিপিএম-এর বিশ্বনাথ ঘোষ এবং বিজেপির খগেন মুর্মু।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এবারের নির্বাচনে গতবারের জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চতুর্থ দফা
আসানসোল
২০১৪-র জয়ী প্রার্থী হলেন বাবুল সুপ্রিয়, জয়ের ব্যবধান ছিল ৭০,৪৮০।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন বিজেপির বাবুল সুপ্রিয়, কংগ্রেসের বিশ্বরূপ মণ্ডল, তৃণমূলের মুনমুন সেন এবং সিপিএম-এর গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়।
একটা বাম দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনে বিজেপি প্রথমবার জয়ী হয় ২০১৪ সালে। সেইবার সিপিএম তৃতীয়স্থানে চলে যায়। এবার বাঁকুড়া থেকে মুনমুন সেনকে সরিয়ে আসানসোলে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বর্ধমান দুর্গাপুর
২০১৪-র নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের মমতাজ সংঘমিত্রা, ব্যবধান ছিল, ১০৭৩৩১ ভোট।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, বিজেপির এসএস আলুওয়ালিয়া, তৃণমূলের মমতাজ সংঘমিত্রা, সিপিএম-এর আভাস রায়চৌধুরী এবং কংগ্রেসের রণজিৎ মুখোপাধ্যায়।
এবার এই আসনে প্রথমবার লড়াই করছেন এসএস আলুওয়ালিয়া। তাঁকে দার্জিলিং থেকে সরিয়ে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপির তরফে।
বহরমপুর
২০১৪ সালে বহরমপুর আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুধী। জয়ের ব্যবধান ছিল রাজ্যের সব থেকে বেশি, ৩,৫৬, ৫৬৭ ভোট।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, তৃণমূলের অপূর্ব সরকার, বিজেপির কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য এবং আরএসপির ইদ মহম্মদ।
১৯৯৯ সালে টানা এই আসনে জয়ী হয়ে আসছেন অধীর চৌধুরী।

পঞ্চম দফা
ব্যারাকপুর
২০১৪ সালে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী। জয়ের ব্যবধান ছিল ২.০৬,৭৭৩।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী, বিজেপির অর্জুন সিং, সিপিএম-এরপর গার্গী চট্টোপাধ্যায় এবং কংগ্রেসের মহঃ আলম।
এবার এই কেন্দ্রে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী। ভোট টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন অর্জুন সিং। এক সময় এই কেন্দ্র থেকে টানা জয়ী হয়ে এসেছে সিপিএম।

ষষ্ঠ দফা
মেদিনীপুর
২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সন্ধ্যা রায়। জয়ের ব্যবধান ছিল ১,৮৫,১২৮ ভোট।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, বিজেপির দিলীপ ঘোষ, তৃণমূলের মানস ভুঁইয়া, সিপিআই-এর বিপ্লব ভট্ট এবং কংগ্রেসের শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়।
একসময়ে সিপিআই-এর শক্ত ঘাঁটি মেদিনীপুরে তৃণমূল প্রথম জয়লাভ করে ২০১৪ সালে।

সপ্তম দফা
ডায়মন্ডহারবার
২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেছিলেন তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ের ব্যবধান ছিল ৭১,২৯৮ ভোট।
২০১৯ সালের প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম-এর ফুয়াদ হালিম, বিজেপির নীলাঞ্জন রায় এবং
কংগ্রেসের সৌম্য আইচ রায়। একসময়ে সিপিএম-এর শক্ত ঘাঁটি এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রথমবার জয়ী হয়েছিল ২০০৯ সালে।
কলকাতা উত্তর
২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ের ব্যবধান ছিল ৯৬,২২৬ ভোট।
২০১৯ -এ প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির রাহুল সিনহা, সিপিএম-এর কনীনিকা বোস ঘোষ এবং কংগ্রেসের সৈয়দ শাহিদ ইমাম।
২০১৪-র নির্বাচনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় হারিয়েছিলেন রাহুল সিনহাকে।
কলকাতা দক্ষিণ
২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সুব্রত বক্সি। জয়ের ব্যবধান ছিল ১,৩৬,৩৩৯ ভোট।
২০১৯-এর প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূলের মালা রায়, সিপিএম-এর নন্দিনী মুখোপাধ্যায়, বিজেপির চন্দ্র বোস এবং কংগ্রেসের মিতা চক্রবর্তী।
২০১৪-র নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বক্সি হারিয়েছিলেন বিজেপির তথাগত রায়কে।












Click it and Unblock the Notifications