পরিকল্পনা করে বিজেপিতে ঢোকানো হয়েছে গুপ্তচর! পিকের ছক 'ফাঁস' করলেন বাম নেতা
বিধানসভা ভোটের আগে গত কয়েকমাস ধরে ভাঙন ধরেছে শাসকদল তৃণমূলে! শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে বঙ্গ বিজেপির। শুভেন্দু অধিকারী সহ একগুচ্ছ তৃণমূল সাংসদ, বিধায়ক নাম লিখিয়েছেন মোদীর দলে।
বিধানসভা ভোটের আগে গত কয়েকমাস ধরে ভাঙন ধরেছে শাসকদল তৃণমূলে! শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে বঙ্গ বিজেপির। শুভেন্দু অধিকারী সহ একগুচ্ছ তৃণমূল সাংসদ, বিধায়ক নাম লিখিয়েছেন মোদীর দলে।
মুকুল রায় এবং দিলীপ ঘোষদের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন তাঁরা। আর দলবদলের মধ্যেই নাকি রয়েছে বড় একটা গেমপ্ল্যান? আর বিশাল বড় এই গেম প্ল্যানের পিছনে রয়েছেন নাকি খোদ শাসকদলের ভোট কৌঁসুলি প্রশান্ত কিশোর। ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট বাম নেতার!

প্রশান্ত কিশোরের গেম প্ল্যানে বিজেপি কুপোকাত!
প্রথম দফার নির্বাচনে আরও পাঁচদিনও বাকি নেই। শাসক হোক বিরোধী সমস্ত শিবিরে জোরদার প্রচার চলছে। কেউ কাউকে জায়গা ছাড়তে নারাজ। আর ভোটের দিনের কয়েকদিন বাকি থাকতেই কার্যত সোশ্যাল মিডিয়াতে বোমা ফাটালেন সিপিএম নেতা তথা রায়দিঘীর প্রাক্তন বিধায়ক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। কার্যত বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর। নিজের ফেসবুকে এ দিন কান্তি লেখেন, "প্রশান্ত কিশোরের গেম প্ল্যানে বিজেপি কুপোকাত। গত কয়েক মাস ধরে সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করে অনেক তৃণমূল নেতাকে বিজেপিতে গুপ্তচর হিসাবে ঢোকান হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ বিজেপির টিকিট-ও পেয়ে গেছে। এরা যদি জিতে আসে তাহলে আবার ঝাঁকের কই হিসাবে মাননীয়া দিদির হাত ধরবে। হায়রে মাথামোটা, মাথায় গোবর পোরা বিজেপির নেতারা প্রশান্ত কিশোরের এই গেম প্ল্যনটা আপনারা ধরতে পারলেন না?????? নাকি সেটাও সেটিং?"

অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি
বাম নেতার বিস্ফোরক এই দাবি ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। রায়দিঘি থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন কান্তী নিজেও। হঠাত ভোটের আগে এহেন অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানোতর। যদিও বিজেপির দাবি, সবদিক ভেবে চিন্তেই তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতৃত্বদের দলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনও গেম প্ল্যান থাকতে পারে না। পালটা তৃণমূলের দাবি, সাধারণ মানুষ পাশে রয়েছে। উন্নয়নের নিরিখে ভোট হচ্ছে। যারা বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁরা ক্ষমতার লোভে গিয়েছেন। ২১ এর ফের বাংলায় মমতার রাজ শুরু হবে। তখন এরা শাসকদলে ফিরতে চাইলে কাউকে নেওয়া হবে না বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।

ভোটের আগে দল বদলেছে অনেকেই!
ভোটের মরশুমে বিশাল একটা ধস নামে শাসকদল তৃণমূলে। অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। আর তাঁর হাত ধরে একের পর এক ভাঙন ধরে। বিজেপিতে নাম লেখান বিধায়ক বিশ্বজিত কুন্ডু থেকে সাংসদ অনেকেই। পরবর্তীকালে বিজেপিতে এসেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী সহ একাধিক বিধায়ক। তৃণমূলস্তরেও বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে নাম লেখান। সম্প্রতি টিকিট না পাওয়াতে বিজেপিতে এসেছেন সোনালী গুহ সহ অনেকেই। কান্তিবাবুর দাবি, সবটাই নাকি খেলা।

‘ওয়াশিং মেশিন নাকি!
বিজেপি 'ওয়াশিং মেশিন'। রাজ্যে দলবদল প্রসঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে এই ভাষাতেই কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূত্র ধরে বিজেপিকে 'জাঙ্ক পার্টি' বলেও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। মমতার মন্তব্য ছিল, ''এই যে কয়েক জন গিয়েছে। কেন গিয়েছে বলুন তো?'' মমতার ব্যাখ্যা, ''ওরা অনেক টাকা করেছে। কাউকে ইডির, সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়েছে। এই সব ভয় দেখিয়ে বলেছে, যদি টাকা রাখতে চাও, তা হলে বিজেপিতে যাও। যদি কালো টাকা সাদা করতে চাও, তবে বিজেপিতে যাও।'' সেই সঙ্গে বিজেপি-কে নিশানা করে তাঁর তোপ, ''বিজেপি 'জাঙ্ক পার্টি' হয়ে গিয়েছে। ডাস্টবিনের মধ্যে সব ফেলে দিচ্ছে। আর সেই ডাস্টবিন থেকে বিজেপি করলে সাত খুন মাফ, অন্যরা করলে বন্ধ ঝাঁপ।'' মমতার মতে, ''বিজেপি হল ওয়াশিং মেশিন। তৃণমূলে থাকলে সবাই কালো। আর বিজেপিতে গেলেই সকলে ভাল।''

বিজেপিতে বিদ্রোহ
ভোটের আগে বহু বিধায়ক দলবদল করেছেন। দলবদলের পুরস্কার হিসাবে এবার বিজেপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা। আর তাতেই দলে বিদ্রোহ! আদি বনাম নব্যের লড়াই। দীর্ঘদিন যারা দল করেছেন তাঁদের প্রার্থী করা হয়নি বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগ ঘিরে যখন সরগরম রাজ্য- রাজনীতি। তখন কান্তীর বিস্ফোরক পোস্ট ঘিরে জোর চর্চা।












Click it and Unblock the Notifications