কালনা পুরসভা মানছে না রাজ্যের নির্দেশিকাই! চেয়ারম্যান-সহ দুই নেতার বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের শাসানোর অভিযোগ
Kalna Municipality: কালনা পুরসভায় লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বিজেপির চেয়ে অনেক ভোটে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে পুরপ্রধান ও তাঁর অনুগামীরা তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন।
পুর পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করে দেওয়ার পরও অবস্থা বদলায়নি। এবার প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

কালনার রাজবাড়ি চত্ত্বরে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছেন পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কালনা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। তৃণমূল শোকজ করেছে চেয়ারম্যানকে।
এরই মধ্যে নয়া অভিযোগ। গত ৪ জুলাই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বেশ কিছু নির্দেশিকা পাঠান বিভিন্ন পুরসভায়। তাতে লেখা ছিল,বিভিন্ন পুর নিগম, পুরসভাগুলি থেকে উন্নয়ন ফি নেওয়ার অভিযোগ আসথে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৪ জুনের পর্যালোচনায় সভায় তা নিয়ে আলোচনা হয়।
তার ভিত্তিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর জানিয়ে দেয়, সার্ভিস চার্জ ছাড়া কোনও ফি নেওয়া যাবে না। যদিও সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালনা পুরসভা বিপুল অঙ্কের ডোনেশন বা ফি নিয়ে চলেছে বলে অভিযোগ। এই সংক্রান্ত নথিও ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা)।
যাতে দেখা যাচ্ছে, কালনার শ্যামলালপাড়ার অসিত কুমার নস্করের থেকে ডোনেশন বাবদ ৩,৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। জাপট পাড়ার সুজয় মালোর থেকে নেওয়া হয়েছে ৬,৬০০ টাকা। ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা অসিত চক্রবর্তীর থেকে ডোনেশন বাবদ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে কালনা পুরসভা।
এখানেই শেষ নয়। একটি ভাইরাল অডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা) আরেকটি বিতর্কে জড়িয়েছে কালনা পুরপ্রধান আনন্দ দত্তকে। কালনা শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্বাস্তু সেলের সভাপতি তন্ময় দাসকে পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, তিনি কতটা শক্তিধর তা তন্ময়ের বাবা-ঠাকুরদার কাছে জেনে নেওয়ার কথা বলে মারধরের হুমকি পর্যন্ত দেন আনন্দ। একটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো নিয়ে পুরসভার দ্বিচারিতার প্রতিবাদ করেছিলেন তন্ময়। তিনি পুকুর ভরাট-সহ নানা অবৈধ কাজের বিরোধিতাও করেন। তার জেরেই হুমকি। কল রেকর্ড করলেও কিছু যায় আসে না, বলেন আনন্দ।
কালনা পুরসভার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি সন্দীপ বসুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের এক কর্মী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা) অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূলের।
সন্দীপ বসুকে 'কালনার জেসিবি' বলেও অভিহিত করে সরব হয়েছে তৃণমূলেরই একাংশ। তাঁদের কথায়, এই নেতাদের জন্য বারেবারেই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে দলকে। সন্দীপের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই এক কর্মীকে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে বিপুল শক্তিধর হিসেবে দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।
তৃণমূলের তরফেই অভিযোগ, রাজ্যের এক মন্ত্রীর হাত মাথার উপরে থাকায় বারেবারেই নানা বিতর্কে জড়ানো এই নেতা পার পেয়ে যাচ্ছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য, অভিযুক্ত নেতাদের আসল রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। অডিওর কণ্ঠস্বর অস্বীকার করা আজকাল ট্রেন্ডিং। যদি ভাইরাল অডিও ভিত্তিহীন হয় তাহলে নেতারা কেন আদালতে যাচ্ছেন না?
এই ঘটনাগুলি নিয়ে রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র তথা কালনার বিধায়ক বলেন, জনপ্রতিনিধি-সহ সকলেরই নম্র থেকে মানুষের জন্য কাজ করা উচিত। যদি তা নয় তা দল কখনও অনুমোদন করে না। আর ডোনেশন নেওয়ার বিষয়ে বলব, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই কাজ করা উচিত পুরসভার। অভিযোগের কথা জেনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।












Click it and Unblock the Notifications