কবীর সুমনের নাম পাতা জুড়ে, পাঠ্যবই বাতিলের নির্দেশ রাজ্যের

দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক 'বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতি'-তে একটি অংশে বাংলার সমসাময়িক সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা ছিল। এ প্রসঙ্গে আলোচনা হবে, অথচ কবীর সুমনের নাম থাকবে না, তাও কী হয়! যুক্তি অনুযায়ী সেটা থাকা উচিত। ছিলও। মানে রাজ্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত সিলেবাস কমিটি কবীর সুমনের নাম রাখার সুপারিশ করেছিল। সেই মতো বই ছাপাও হয়ে যায়। সেই বই স্কুলে-স্কুলে পৌঁছে যায়। শুরু হয়ে যায় পড়ানোও। তার পরই টনক নড়ে রাজ্য সরকারের। শুক্রবার বই তুলে নিতে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্ষুশূল বলেই কি তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত, উঠছে প্রশ্ন
শিক্ষা দফতরের বক্তব্য, সমসাময়িক বাংলা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে শুধু কবীর সুমনের নামই রাখা হয়েছিল। আর কারও নাম নেই। এতে ভুল শিখবে পড়ুয়ারা। তাই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হল।
যদিও এই যুক্তি পুরোপুরি ঠিক নয়। কারণ রামকিঙ্কর বেইজ, দেবব্রত বিশ্বাস প্রমুখের নামও ছিল বইটিতে। তার সঙ্গে ছিল কবীর সুমনের নাম।
এক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমত, কবীর সুমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুনজরে নেই বলেই কি রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত? দ্বিতীয়ত, সরকার নিযুক্ত সিলেবাস কমিটিই তো কবীর সুমনের নাম বেছে নিয়েছিল। তা হলে, তখন সরকারি কর্তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন কেন? তৃতীয়ত, সংশোধনের পর কবীর সুমনের নাম অন্যান্যদের সঙ্গে বইটিতে থাকবে তো? যদি না থাকে, তা হলে পরিষ্কার বোঝা যাবে প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ। রাজনীতিক আদর্শ যাই হোক, আধুনিক বাংলা গানের জগতে কবীর সুমন নিঃসন্দেহ একজন দিকপাল। চতুর্থত, যখন স্কুলে সেশন শুরু হয়ে গিয়েছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত আখেরে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি করবে। তার জন্য কে দায় নেবে? পঞ্চমত, নতুন বই ছেপে কবে আসবে? পরীক্ষার আগে পড়ুয়ারা হাতে বই পাবে তো?
স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।












Click it and Unblock the Notifications