আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবি, মেয়েদের দখলে রাত! উত্তর থেকে দক্ষিণে অরাজনৈতিক বিরল প্রতিবাদ
RG Kar Incident: আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। রাজ্য় সরকার ও কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আদালতেও।
আর কিছু সময় পরেই স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মাতবে গোটা দেশ। বাংলার বিভিন্ন জায়গায় চলছে ফ্রিডম অ্যাড মিডনাইট। তার আগে বাংলার উত্তর থেকে দক্ষিণ দেখল অরাজনৈতিক এক বিরল দৃশ্য।

'মেয়েরা রাত দখল করো' আহ্বান জানিয়ে যে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা নিয়ে তুফান ওঠে, সন্ধ্যা থেকেই তাতে দেখা গেল বিপুল সাড়া। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলায় গ্রাম ও শহরাঞ্চলে চলছে সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি-সহ ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে।
কোথাও মহিলারা হাতে তুলে নিলেন মশাল। কোথাও হলো মোমবাতি মিছিল। কোথাও মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে কর্মসূচি। যা চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। অনেক জায়গায় মহিলারা রাতের রাস্তা দখল করলেন শঙ্খ বাজিয়ে। কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই।
দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানে বসে প্রতিবাদে মুখরিত হন নকশালবাড়ি নাগরিক মঞ্চের সদস্যরা। কেউ হাতে প্ল্যাকার্ড, কেউ আবার ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। নির্যাতিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় মোমবাতি জ্বালিয়ে। বক্তৃতা, গান, আবৃত্তির মাধ্যমে মেয়েদের রাত দখল প্রতিবাদ চলতে থাকে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর কটাক্ষকে উপেক্ষা করে তাঁর খাসতালুক দিনহাটার রাজপথ দখল করে নিলেন মেয়েরা। শহিদ হেমন্ত বসু কর্নারে সাড়ে সাতটায় একে একে জড়ো হতে থাকেন দিনহাটা শহর এবং শহর-লাগোয়া এলাকার মেয়েরা। অনেক মা এসেছিলেন সন্তান কোলে। আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার প্রতিবাদ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
আরজি কর কাণ্ডে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন বালুরঘাট শহরের বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়, নাগরিক সমাজের নামে এই প্রতিবাদ মিছিল। মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত রাজ্য চাই এই মিছিলকে সামনে রেখে বালুরঘাটে নাগরিকদের এই মিছিলে প্রায় শ'দুয়েক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বালুরঘাট স্টেট বাস স্ট্যান্ড থেকে এই মিছিল শুরু হয় শেষ হয় বালুরঘাট থানার সামনে ভগৎ সিং এর মূর্তির পাদদেশে।
হুগলি জেলায় চুঁচুড়া ডিআই অফিসের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল ইমামবাড়া হাসপাতালের সামনে ছাতিমতলায় শেষ হয়। প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় উই ওয়ান্ট জাস্টিস। কালিয়াগড় চৌমাথা থেকে জিরাট বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত হাতে মশাল নিয়ে মিছিল করে নাগরিকরা।
জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মশাল জ্বেলে দুই কিলোমিটার রাস্তায় ধরে এগিয়ে যায় সেই প্রতিবাদ মিছিল। পাণ্ডুয়াতেও জাতীয় পতাকা হাতে মোমবাতি মশাল নিয়ে মিছিল সংঘঠিত হয়। অন্যান্য জায়গার মতো গুপ্তিপাড়া স্টেশন বাজারেও মেয়েদের রাস্তা দখল কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকলেই আরজি কর কাণ্ডে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি-সহ নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একাধিক দাবি জানান।
বাঁকুড়ার খাতড়ায় মশাল, মোমবাতি ও মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে প্রতিবাদ মিছিলে পথ হাঁটলেন মানুষ। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে প্রত্যন্ত গ্রামেও। ছাতনার লায়েকডিহি গ্রামে শঙ্খধ্বনি দেন মা-বোনেরা।












Click it and Unblock the Notifications