কর্মবিরতি প্রত্যাহার জুনিয়র চিকিৎসকদের, পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদ, রাজ্য সরকারকে ডেডলাইন 'অভয়াপক্ষ'-র
Doctors' Protest: কর্মবিরতি পুরোপুরিভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই সঙ্গে দাবি পূরণের জন্য ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হলো রাজ্য সরকারকে।
ধর্মতলা থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে দেবাশিস হালদার বলেন, কোনও চাপে নয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট, আবেগকে মর্যাদা দিয়ে জিবি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

দেবাশিসের কথায়, মহাসমাবেশ থেকেই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা ঘোষণা করেছিলাম। সিনিয়র, জুনিয়র চিকিৎসক, নার্সের সঙ্গে এই রয়েছে সাধারণ মানুষের আবেগ, আগুন। তা নিয়েই এই গণ আন্দোলন। রোগীদের কথা ভেবে জিবি করে ঠিক করেছি, আজ থেকে কর্মবিরতি আমরা প্রত্যাহার করছি সম্পূর্ণরূপে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ বলতে পারেন কর্মবিরতি ভয় পেয়ে তুলছি। তা নয়। জনগণ আমাদের পাশে রয়েছেন। আমরা আন্দোলন তীব্রতর করছি। ধর্মতলায় ডোরিনা ক্রসিংয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছি। সেখানেও আমরা বসে থাকব, কাজেও ফিরব। কাজও করব, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তাতেও আছি। আমরা এবার জীবন বাজি রাখব। ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবস্থান মঞ্চ তৈরির জন্য আবেদন করলেও রাস্তা অবরুদ্ধ হবে বলে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
একটি ঘড়ি দেখিয়ে দেবাশিস বলেন, এটি প্রতীকী। প্রতিটি মিনিট, ঘণ্টার হিসেবে হবে। অবস্থান মঞ্চে রাখব এটি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকার আমাদের দাবি না মানা হলে অভয়াপক্ষ নিজেদের জীবন বাজি রাখবে। আমরণ অনশনের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ অভয়াপক্ষে রয়েছেন। আরেক পক্ষ সরকার। তারা ভাবুক অভয়াপক্ষের দিকে আসবেন কিনা।
জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, আমাদের প্রথম দাবি অভয়ার ন্যায়বিচার। অপর দাবি, আরেকটা অভয়া যাতে না হয়। সে কারণেই আমাদের ১০ দফা দাবি। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার বলেছে নিরাপত্তা, সুরক্ষার কাজ নাকি ২৬ শতাংশ হয়েছে। ১-২ টি জায়গা বাদ দিলে সামগ্রিকভাবে ৬ শতাংশও কাজ হয়নি। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আমাদের ধরনা শুরু হতেই রাতারাতি ৩০টি সিসিটিভি বসে গেল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কাজ এগোয়নি রাজ্য সরকার।
জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেন, আমরা বেডের স্বচ্ছতা-সহ যে ব্যবস্থা রাখতে বলেছিল তাতে সাধারণ মানুষকে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হবে না। সব জায়গায় ঘুরে যখন রোগীর মৃত্যু হয় তখন তাঁদের স্বাভাবিক রাগের সামনে আমরা পড়ি। সরকার দুই পক্ষকে মুখোমুখি লড়িয়ে দিতে চায়। আমরা সেন্ট্রাল ডিরেক্টিভ চাই, যাতে গণতান্ত্রিক পরিসর উন্মুক্ত হয়।
দেবাশিস হালদার বলেন, "গতকাল আশিস পাণ্ডে আর্থিক দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছে। আশিস থ্রেট কালচারের মাথায় ছিল। সন্দীপ ঘোষেরা সিলেক্ট করে সিন্ডিকেট চালাচ্ছিল। গণতান্ত্রিক পরিসর উন্মুক্ত করলে থ্রেট কালচার দূর করতে পারব।"
রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেবাশিস বলেন, সুপ্রিম কোর্টে সরকার বলল চিকিৎসকরা বেড না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বেড দেওয়া কি চিকিৎসকদের কাজ? সরকার চিকিৎসকদের গণশত্রু বানাতে চাইছে। সুপ্রিম কোর্টে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম চিকিৎসকদের উপর দায় ঠেলেছেন। আমরা প্রথম থেকে তাঁর অপসারণ চেয়ে এসেছি। তাঁকে অপসারণ করতে হবে, এটা আমাদের দাবি।
জুনিয়র চিকিৎসকরা আজ মিছিল করে ধর্মতলায় আসেন। তারই মধ্যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। অভিযোগ, প্রেস কনফারেন্স ও অবস্থান মঞ্চ তৈরির সময় এক জুনিয়র চিকিৎসককে নিগ্রহ করেন পুলিশকর্মীরা। জুনিয়র চিকিৎসকরা এর প্রতিবাদে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পুলিশ কর্তারা বলেন, লিখিত দিতে। তাঁরা নিশ্চিত নন কারা এমন কাজ করেছেন। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি, এতেই বোঝা যায় সদিচ্ছা নেই। পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications