শালবনিতে ইস্পাত কারখানা তৈরির কাজ বন্ধ করল জিন্দল গোষ্ঠী

বামফ্রন্টের জমানায় দেহ রেখেছিল একের পর এক কারখানা। তৃণমূল কংগ্রেস আশা জাগিয়ে ক্ষমতায় এলেও তাদের রাজত্বে ছবিটা পাল্টায়নি। যথারীতি শিল্পে অন্তর্জলি যাত্রা চলছে। এ বার জিন্দল গোষ্ঠীর প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা হিমঘরে চলে গেল।
কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিল জিন্দল গোষ্ঠী? সংস্থার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজ্জন জিন্দল বলেন, আকরিক লোহা, কয়লা ও বিদ্যুতের জোগান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাই কারখানার কাজও স্থগিত রাখা হয়েছে। যতদিন না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততদিন আর কাজ চালু হবে না।
বামফ্রন্ট আমলে ২০০৭ সালে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় জিন্দল গোষ্ঠীর। প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা হলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হস্তক্ষেপে তা মিটে যায়। এখনও পর্যন্ত তারা ৭০০ কোটি টাকা খরচ করেছে কারখানা নির্মাণ খাতে। কিন্তু কয়লা ও আকরিক লোহার জোগান নিশ্চিত করতে পারছে না তারা। প্রশ্ন উঠেছে, কয়লা ও আকরিক লোহা পাওয়ার ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত না হয়ে তা হলে কেন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে গেল জিন্দল গোষ্ঠী?
তবে প্রশ্ন উঠেছে বর্তমান রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও। কারণ, ইস্পাত কারখানা চালাতে গেলে কয়লা ও আকরিক লোহা ছাড়াও দরকার বিদ্যুৎ। কারখানা চালু হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হওয়া বাঞ্ছনীয়। আবার আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়ে গেলে তাতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যদি বিক্রির জায়গা না পাওয়া যায়, তা হলে মুশকিল। এটাই হয়েছে জিন্দলদের প্রকল্পের ক্ষেত্রে। জিন্দল গোষ্ঠী তাই রাজ্য সরকারকে বলেছিল, তারা শালবনিতে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়বে। যতদিন না কারখানা চালু হচ্ছে, ততদিন তা কিনুক রাজ্য সরকার। অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ কিনতে রাজি হয়নি কিংবা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার ছাড়পত্রও দেয়নি। তাই জট তৈরি হয়।
জিন্দল গোষ্ঠীর কারখানা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় তাই স্বাভাবিকভাবেই হতাশা নেমে এসেছে শিল্প মহলে।












Click it and Unblock the Notifications