মমতার বাংলায় অরাজকতা, অসহিষ্ণুতা! ডায়মন্ডহারবারে অভিষেকের তুলনায় নাড্ডা টানলেন সিপিএম নেতার নাম
মমতার বাংলায় অরাজকতা, অসহিষ্ণুতা! ডায়মন্ডহারবারে অভিষেকের তুলনায় নাড্ডা টানলেন সিপিএম নেতার নাম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) রাজত্বে বাংলায় অরাজকতা, অসহিষ্ণুতা। এদিন ডায়মন্ডহারবারে সভা থেকে এমনটাই অভিযোগ করলেন বিজেপির (bjp) সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (jp nadda)। নিজের ভাষণের শুরুতে তিনি বলেন, মমতাজি আপনার যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।

ডায়মন্ডহারবারের পথে কনভয়ে হামলা
এদিনের সভায় যোগ দিতে নির্দিষ্ট সময়েই কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। সঙ্গে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের মতো বিজেপি নেতারা। সঙ্গে ছিল অর্ধশতাধিক গাড়ির কনভয়। নাড্ডা নিজেও জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। সেই পরিস্থিতিতে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অর্থাৎ ডায়মন্ডহারবার রোডে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা মোড় পেরনোর পরেই কনভয়ে হামলা হয়। লাঠি, কাঁচের বোতল, ইট ও পাথরের টুকরো উড়ে আসতে থাকে। কনভয়ে থাকা প্রায় সব গাড়িরই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়। অন্যদিকে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, অনুপম হাজরারা অল্প বিস্তর আঘাত পান।

গুণ্ডা রাজ বন্ধ করতে হবে
নিজের ভাষণের শুরুতেই জেপি নাড্ডা রাজ্যে অসহিষ্ণুতা এবং অরাজকতার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন এই রাজ্যে গুণ্ডারাজ খতম করতে হবে। এরজন্য সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ চান তিনি। তিনি বলেন, নিজের গাড়ি বুলেট প্রুফ হওয়ার জন্যই তিনি বেঁচে গিয়েছেন। কিন্তু অন্যদের গাড়ি তা না হওয়ায় রক্ষা হয়নি। তিনি বলেন, যে বাংলা দেশ দৃষ্টি দিয়েছে, সেই বাংলার অবস্থা এখন নিচে নেমে গিয়েছে। একে টেনে তুলতে হবে, সোনার বাংলা গড়তে হবে বলেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জ্যোতির্ময় বসুর তুলনা
এদিন জেপি নাড্ডা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে ডায়মন্ডহারবারের প্রাক্তন সাংসদ জ্যোতির্ময় বসুর নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এত গুণি ছিলেন জ্যোতির্ময় বসু, কিন্তু সেই জায়গায় এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত জ্যোতির্ময় বসু ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। তিনি ছিলেন সিপিএম-এর সদস্য। তাঁর বাগ্মীতায় মুগ্ধ হতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও। সেই ডায়মন্ডহারবারেই কমল ফোটানোর ডাক দেন ডেপি নাড্ডা।

প্রশাসনের রাজনীতিকরণ
এদিনের সভা থেকে জেপি নাড্ডা প্রশাসনের রাজনীতিকরণের অভিযোগ করেন। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গে ঘোরা মুশকিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মমতাকে কটাক্ষ
এদিনের সভা থেকে তিনি তৃণমূলকে চাল চোর, ত্রিপল চোর বলে কটাক্ষ করেন। বলেন আম্ফানের ত্রাণে টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই টাকায় কেনা চাল ও ত্রিপল চুরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তিনি কাটমানি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো কথার উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ৭৫ শতাংশ দলকে দিতে হবে, আর ২৫ শতাংশ নিজের। এর পাশাপাশি আয়ুষ্মাণ ভারত এবং কৃষক সম্মাননিধি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই দুই প্রকল্পের টাকা তাঁর সরকারকে দিয়ে দিতে। সেই টাকা নিয়ে কি ফের লুট হবে, প্রশ্ন করেন নাড্ডা। তিনি বলেন তৃণমূলকে এবার আরাম দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications