শুভেন্দু আগেই আরেকটা নন্দীগ্রাম করতে চেয়েছিলেন, ফের বোমা ফাটালেন জয়প্রকাশ
শুভেন্দু আগেই আরেকটা নন্দীগ্রাম করতে চেয়েছিলেন, ফের বোমা ফাটালেন জয়প্রকাশ
রামপুরহাটের বগটুইয়ের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে তৃণমূল দাবি করেছে এর নেপথ্যে রয়েছে বড় ষড়যন্ত্র। এবার সেই ষড়যন্ত্রের কথায় ফের শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়াল। সদ্য বিজেপিত্যাগী তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার ফের একবার শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য তুলে ধরে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করলেন।

যদি আর একটা নন্দীগ্রাম করিয়ে নিতে পারি
জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, মানসবাবুর মৃতদেহ নিয়ে মিছিলের পরের দিন শুভেন্দুবাবু বলেছিলেন, ''এসব করে কিছু হবে না। যদি আর একটা নন্দীগ্রাম করিয়ে নিতে পারি। তাহলে ফের ৩৫৫ বা ৩৫৬ করা যেতে পারে। তখন শুভেন্দুবাবুকে বলেছিলাম, নন্দীগ্রামের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি শাসন হল না, আর এখন হবে। তখন শুভেন্দুবাবু উত্তরে যা বলেছিলেন, এই রামপুরহাটের ঘটনা যে বড় চক্রান্ত, তা মনে হতেই পারে।

পিছনের দরজা দিয়ে আসার কথা ভাবছেন তারা!
জয়প্রকাশ মজুমদারের কথায়, শুভেন্দুবাবু তখন বলেছিলেন, কেন হবে না রাষ্ট্রপতি শাসন। এখন কেন্দ্রে আমাদের সরকার আছে। এখানে আমাদের রাজ্যপাল আছে। তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন হবে না কেন। এরপর জয়প্রকাশ বলেন, এ থেকেই প্রমাণিত- আসলে একটা বড় চক্রান্ত করা হচ্ছে। সামনের দরজা দিয়ে ঢুকতে পারেনি বিজেপি। মানুষের ভোটে হেরেছে। এখন পিছনের দরজা দিয়ে আসার কথা ভাবছেন তারা।

শুভেন্দুর শারীরিক ভাষা দেখেছেন? গভীর বিরাট ষড়যন্ত্র
জয়প্রকাশ মজুমজদার আরও বলেন, যে ভাবে রাজ্যপাল কথা বলছেন। যে ভাবে সংসদে বিজেপির নেতারা কথা বলছেন। তারপর যে ঘটনা পরম্পরা ঘটছে, তা মেলালে বোঝা যায়, এর গভীর রয়েছে বিরাট ষড়যন্ত্র। মনে হবেই, এসব কোনও চক্রান্ত নয় তো? গতকালের শুভেন্দুর শারীরিক ভাষা দেখেছেন? তিনি তো কেন্দ্রীয় সরকারের কেউ নন। তিনি কার্যত করায়ত্ত করার কথা বলছেন।

রাজ্যভবনকে ধরেই নেওয়া হত বিজেপির ঘাঁটি হিসাবে
রাজ্যপালকেও এ ব্যাপারে একহাত নিয়েছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, রাজ্যভবনকে ধরেই নেওয়া হত বিজেপির ঘাঁটি হিসাবে। রাজ্যপালের অফিসকে টেকেন অফ গ্রান্টেড ধরে নেওয়া হত। লখিমপুরের ঘটনার পরে তো ইউপির রাজ্যপাল যোগীকে মনে করিয়ে দেননি তাঁর ভূমিকা। আসলে রাজ্য ও ক্ষেত্রবিশেষে এদের ভূমিকা নির্ভর করে। আমাদের রাজ্যপাল যেসব বিবৃতি দিচ্ছেন, তাও চক্রান্তের অংশ হতে পারে।

শুভেন্দু নিয়ে জয়প্রকাশের অভিযোগ প্রসঙ্গে
শুভেন্দু আগেই আরেকটা নন্দীগ্রাম করতে চাইছিলেন, জয়প্রকাশের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র বলেন, না জান, না পেহচান, মেয় তেরা মেহমান করে শুভেন্দুর বাড়ি যাওয়া লোকজন এখন শুভেন্দুর সমালোচনা করতে এসেছেন! কাগজে শুভেন্দুর সঙ্গে ছবি ছাপলে ধন্য ভাবত ওঁরা। ভোর তিনটেয় বাড়ি যেতেন। পাল্টিবাজ আজ কী বললেন, তাতে কিছু যায় আসে না।

রামপুরহাটে যা হয়েযে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক গণহত্যা
বিজেপি বলছে, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক গণহত্যা। পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই গণহত্যা করা হয়েছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী ও ছোট নেতা ষড়যন্ত্র খুঁজে দেখছেন। এই ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তা বললেন, এটা রাজনৈতিক ঘটনা নয়। ক্যাবিনেট মন্ত্রী বলছেন, আমাদের কর্মী খুন মানে আমাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা বলছি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক গণহত্যা।

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের রহস্য ফাঁস করেছিলেন জয়প্রকাশ
জয়প্রকাশ মজুমদার এর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয় নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শুভেন্দু যে হেরে গিয়েছিলেন সেই সাংবাদিক বৈঠক আমি করেছিলাম। বলেছিলাম মাননীয়ার কাছে পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার কিছুক্ষণ পর ফলাফ উল্টে যায়। শুভেন্দুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কী করে তা সম্ভব হল। শুভেন্দু বলেছিলেন, জেতার জন্য অনেক কিছু করতে হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications