Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর 'যো হামারে সাথ, হাম উনকে সাথ' স্লোগানে সমর্থন বাড়ছে বিজেপিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

Suvendu Adhikari: রাষ্ট্রবাদী মুসলিম আর বলবেন না। সংখ্যালঘু মোর্চারও দরকার নেই। শুভেন্দু অধিকারী এ কথা বলেই দেন স্লোগান, 'যো হামারে সাথ, হাম উনকে সাথ'।

রাজ্য পেরিয়ে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে শুভেন্দুর এই স্লোগান। রাজ্য বিজেপি শুভেন্দুর প্রস্তাবে সায় দেয়নি। কিন্তু তারই মধ্যে বাড়ছে এই স্লোগানের প্রতি সমর্থন।

Suvendu Adhikari

কয়েক বছর আগে শুভেন্দুর অনুগামীদের 'আমরা দাদার অনুগামী' ব্য়াপক শোরগোল ফেলেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেবারের মতো এবার সেই অনুগামীদের অনেকেরই হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকের ডিপি, প্রোফাইল পিকচারে জায়গা করে নিয়েছে শুভেন্দুর ছবি ও তার স্লোগান। তথাগত রায় শুভেন্দুর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।

বিজেপির বিভিন্ন সাংগঠনিক গ্রুপে যা ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। শুভেন্দুর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর হোয়াটসঅ্যাপ ডিপিতে যেমন এই স্লোগান ঠাঁই পেয়েছে, তেমনই ঝাড়গ্রামে লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুও ফেসবুকে একই ছবি পোস্ট করেছেন।

শুভেন্দু নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর কথায়, আমি সরকারি কোনও মঞ্চে নয়, দলীয় প্ল্যাটফর্মে যা বলার বলেছি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তাঁকে সব কা সাথ, সব কা বিকাশ বলতে হবে। কিন্তু মনে মনে অনেক বিজেপি নেতাও এই স্লোগান সমর্থন করেন।

শুভেন্দুর দাবি যে ভুল নয়, তা নেতা-কর্মীদের এই স্লোগান জনপ্রিয় করার মধ্যে দিয়েও স্পষ্ট। শুভেন্দুর অনুগামীদের কথায়, নন্দীগ্রামে কিছু মুসলিম পরিবারের মা তাঁদের সন্তানের নাম রেখেছেন শুভেন্দু। শুভেন্দু তাঁদের পাশে বরাবর রয়েছেন। এমনকী কাঁথির শান্তিকুঞ্জ থেকেও নিয়মিত নানাভাবে সাহায্য পান সংখ্যালঘুরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চাকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয়। সংগঠনের মাথায় যিনি বসে তাঁকে পাড়ার লোকেও চেনেন না। তৃণমূলে কল্কে না পেয়ে বিজেপিতে এসে পদ পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। কাজের কাজ করার দক্ষতা তাঁর নেই, সংগঠনের অবস্থাও তথৈবচ।

সংখ্যালঘুদের জন্য বিজেপি যতটা কাজ করেছে তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে দেখা যায়নি। সেই বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু অভিমানে দলের বৈঠকেই নিজের মনোভাব স্পষ্ট করেছেন। শুভেন্দু যে টার্গেট করেছেন অনুপ্রবেশকারীদেরই, সেটাও বারেবারেই তুলে ধরেছেন।

শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার বহু জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর অনুমতি দিচ্ছেন না। তার সুযোগে রোহিঙ্গারা ঢুকে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের নানা প্রান্তে। অপরাধমূলক কাজে গ্রেফতারও হচ্ছে। তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ জোগাড়ে সুযোগ করে দিচ্ছে শাসক দলই।

শুভেন্দু দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে আসার পরেই দলের বৈঠকে নয়া স্লোগান যেভাবে দিয়েছেন তা তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে শুভেন্দু যখন সব কথা মেপে বলেন। শুভেন্দু সমর্থন করছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যকেও। হিমন্তও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সরব হয়েছেন।

হিমন্ত কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যান, শুভেন্দু গিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দুজনেই অমিত শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। হিমন্ত বলেছেন, যেভাবে অসমে প্রতি ১০ বছরে ৩০ শতাংশ হারে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ২০৪১ সালে অসমে হিন্দুরাই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন।

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুও যেভাবে নিজের বক্তব্যে অনড়, তাতে এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে যে, শীর্ষস্তরের একাংশের অনুমোদন না থাকলে কি এভাবে ফ্রন্টফুটে ব্যাটিং করতেন হিমন্ত-শুভেন্দুরা? হিন্দু ভোট এককাট্টা করে বিজেপি অনেক রাজ্যেই লাভবান যে হতে পারে, সেই সম্ভাবনাও যে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+