চিতার চামড়া ফিরিয়ে নজির গড়লেন জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ী
জলপাইগুড়ির এক ব্যবসায়ী চিতাবাঘের চামড়া বাড়িতে রেখেছিলেন। সেই বাঘের চামড়া বন দপ্তরকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পর বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন।
জলপাইগুড়ির এক ব্যবসায়ী চিতাবাঘের চামড়া বাড়িতে রেখেছিলেন। সেই বাঘের চামড়া বন দপ্তরকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পর বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। বন দপ্তরের মুখ্য বনপাল জানালেন নিয়মের বাইরে এই ভাবে চিতাবাঘের চামড়া দেওয়া যায় না। ব্যবসায়ী অনিমেষ দেব জানান আমার বাবার আমলে এই চিতাবাঘটিকে মারা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই চিতাবাঘের চামড়াটি বাড়িতে ছিল। আজ বন দপ্তরের ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেনকে ডেকে তিনি চামড়াটি বন দপ্তরের হাতে তুলে দেন। এদিকে ওনানারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন কি করে চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার করে নিয়ে এলেন। এই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের মধ্যে।বাঘের চামড়া নিতে গেলে তার পদ্ধতি গত ত্রুটি আছে বলে অভিযোগ করেছেন বন্যপ্রাণী প্রেমী সংগঠনের সদস্যরা।

চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে বন্যপ্রাণী বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠে। এদিন জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ী অনিমেষ দেব দাবি করেছেন এই চিতাবাঘের চামড়াটি তার বাবার আমলের তার জন্মের আগে । তিনি ছোট বেলা থেকে এই বাঘের চামরাটি দেখেছেন । কিন্তু সম্প্রতি তিনি বাড়ি জানিয়েছেন বাড়িতে একটি কাঠের বাক্স ছিল সেই বাক্সটি ভাঙা হয়। এরপর দেখা যায় চিতাবাঘের চামড়া ওই বাক্সটির মধ্যে আছে । দেখার পরই কি করবে ভেবে উঠতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে তারা বনদপ্তরকে খবর দিলে ওই ব্যবসাইকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বাড়ির গৃহবধূ অবশেষে আজ ওনানারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরীকে ডেকে চিতাবাঘের চামড়া বনদফতরের হাতে তুলে দিলেন।এই ব্যবসায়ীর বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরের তেলি পাড়ার ট্রেম্পল স্ট্রিটের বাসিন্দা অনিমেষ দেব।
কিন্তু এই চামড়াটি পুরনো কিনা তদন্ত করে দেখা হবে। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্পোর নামক বন্যপ্রাণী প্রেমী সংগঠনের সদস্য শ্যামা প্রসাদ পান্ডে । শ্যামা প্রসাদ তিনি বলেন যদি তার বাড়িতে চিতাবাঘের চামড়া থাকে তাহলে বন দপ্তরকে লিখিত জানাতে হবে। এরপর বন দপ্তর তদন্ত করবে সেটা কত পুরনো। তারপর বন দপ্তর সেটি নিতে পারবে। কিন্তু আজ যা হল তা নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনিমেষ বাবু বন দপ্তরকে জানিয়েছেন কিনা জানা নেই। তবে অনিমেষ দেব ও সীমা চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান শ্যামা প্রসাদ পান্ডে। তিনি বলেন সরকারি নিয়ম মেনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই কোন জটিলতা থাকবে না। অনিমেষ দেব জানান তার জন্মের আগে ৬০ বছর আগের এই চিতাবাঘের চামড়াটি । অনিমেশ বাবুর বাবা মৃত আদিত্য চন্দ্র দেব চিতা বাঘটি মেরেছিলেন বলে অনুমান দেব পরিবারের। তারপর থেকে বাড়ির পুরোনো একটি বাক্সতে মজুত করে রেখেছিলেন । এদিন পুজোর জন্য বাড়ি পরিস্কার করতে গিয়ে পুরোন বাক্স থেকে বের হয়ে আসে চিতা বাঘের চামড়াটি। সেটি কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা ছিল । অনিমেশ দেব বলেন, ৬০ বছর আগে বাবা ডুয়ার্সে কাঠের ব্যবসা করতে গিয়ে হয়ত চিতাবাঘটিকে মারে। চিতা বাঘের চামড়াটি তুলে দিতে পেরে আমার পরিবার খুশি উত্তরবঙ্গে অনেক বাড়িতেই এমন চিতাবাঘের চামড়া আছে। আমিও চাই সবাই বনবিভাগের হাতে এসব তুলে দিক। এখন তো এসব বাড়িতে রাখা বে আইনি। এদিকে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী বিভাগের মুখ্য বনপাল উজ্জ্বল ঘোষ জানান এমন ঘটনা শুনেই অবাক হয়ে যান। এই চিতাবাঘের চামড়া আগেই জমা দেওয়া উচিৎ ছিল। উনি কেন জমা দেননি বলে প্রশ্ন তোলেন উজ্জ্বল ঘোষ।
কিন্তু সেই টাইমটা চলে গেছে। আজ কি হয়েছে ঘটনাটি আমার জানা নেই।আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ করে দেখব। অফিসায়লি আর ডিক্লেয়ারেশন আর স্কোপ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন উজ্জ্বল ঘোষ। এদিন বনদফতরের অনানারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, চিতাবাঘের চামড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। আমি বন দপ্তরের আধিকারিকের কাছে এটা তুলে দিয়েছি । আমি সবাইকে বলব আপনাদের বাড়িতে কোন বন্যপ্রাণীর দেহাংশ থাকলে আপনারা আমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমদের সহযোগিতা করবেন।












Click it and Unblock the Notifications