জৈন হাওয়ালা মামলাতে যশবন্ত সিনহা, অজিত পাঁজার নাম ছিল! মমতাকে জবাব দিতে বিস্ফোরক রাজ্যপাল
জৈন হাওয়ালা-কাণ্ড নিয়ে নতুন করে সংঘাতের রাস্তায় নবান্ন এবং রাজভবন। ১৯৯১ সালের এই ঘটনা নিয়ে একটা সময় উত্তাল হয় রাজ্য-রাজনীতি। একাধিক রাজ নেতার, প্রশাসনের আধিকারিকদের নাম জড়ায়। নতুন করে ফের একবার তোলপাড় হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনী
জৈন হাওয়ালা-কাণ্ড নিয়ে নতুন করে সংঘাতের রাস্তায় নবান্ন এবং রাজভবন। ১৯৯১ সালের এই ঘটনা নিয়ে একটা সময় উত্তাল হয় রাজ্য-রাজনীতি। একাধিক রাজ নেতার, প্রশাসনের আধিকারিকদের নাম জড়ায়। নতুন করে ফের একবার তোলপাড় হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁর সাফ জবাব, আমার নাম নয়, জৈন হাওয়ালা-কাণ্ডে যশবন্ত সিং এবং অজিত পাঁজার নাম ছিল। এই বিষয়ে যশবন্ত সিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা করা উচিৎ বলে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি রাজ্যপালের।
পাল্টা তৃণমূলের দাবি উনি অসত্য কথা বলছেন। হাওয়ালা-কাণ্ডে ডায়েরিতে ওনার নাম ছিল না সেই বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি রাজ্যপাল। রাজ্যপালের সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। পালটা সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত তুলোধোনা করা হয়।
উনি মুখ্যমন্ত্রীকে লাগাতার অপমান করছেন! সংবিধানকে অপমান করছেন বলেও অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের। তবে হাওয়ালা-কাণ্ড নিয়ে সঠিক সত্য রাজ্যপাল দিচ্ছেন না বলেও এদিন অভিযোগ করেন তিনি। আগামিদিনে শাসকদল তৃণমূলকে এই বিষয়ে জবাব দেবে বলেও দাবি করেছেন সুখেন্দু শেখরবাবু।
উল্লেখ্য, আজ সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন রাজ্যপাল ধনখড়ের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের হাওলা ও জৈন কেসেও এই রাজ্যপালের নাম ছিল। চার্জশিটেও নাম ছিল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আদালতকে ম্যানেজ করা হয়েছিল।
পরে ফের আদালতে মামলা হলে, তা এখনও আদালতের বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার খুঁজে বের করুক সেই চার্জশিট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার পরেই কার্যত নড়েচড়ে বসেন রাজভবনও। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
পালটা মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে রাজ্যপাল বলেন, আমার নাম নয়, জৈন হাওয়ালা-কাণ্ডে যশবন্ত সিং এবং অজিত পাঁজার নাম ছিল। পরে তাঁরা অভিযুক্তকে মুক্ত হন।
প্রয়োজনে এই বিষয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্তমান তৃণমূল নেতার সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ মমতাকে দেন রাজ্যপাল ধনখড়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেয়উ দোষী সাব্যস্ত হননি। মামলা এখনও বিচারাধীন। এই ঘটনায় কোথাও আমার নাম নেই। তথ্য-প্রমাণ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ফলে শুধুমাত্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে একজন নেতার এহেন মন্তব্য মানায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ রাজ্যপালের। তাঁর অভিযোগ, মানুষের সামনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। এটা আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আশা করিনি। তবে তিনি কেন এমন অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনছেন তা তিনি জানেন বলে দাবি রাজ্যপালের।
তাঁর মতে, প্রতি মুহূর্তে সরকারের ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি। আর তাতে আরও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। আর সেই কারণেই উনি এত রেগে যাচ্ছেন আমার উপর। তবে এক্ষেত্রে সংবিধানের একাধিক ধারা তুলে ধরেন রাজ্যপাল ধনখড়। একই সঙ্গে দাবি করেন, সংবিধান তাকে অধিকার দিয়েছে সরকারের ভুল আঙুল দেখিয়ে দেখানোর।
অন্যদিকে, করোনার সময় রাজ্যের স্যানিটাইজার সহ একাধিক বিষয় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এদিন ফের সেই বিষয়টিককে সামনে তুলে এনে মমতা বন্দ্যপাধায়কে আক্রমন করেণ রাজ্যপাল। বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
এই রিপোর্ট এখনও কেন সামনে আসছে না? প্রশ্ন রাজ্যপালের। তাঁর দাবি, তদন্ত কমিটি তৈরি হয়, কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসে না এই রাজ্যে। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও চুপ আছে বলে অভিযোগ রাজ্যপালের ধনকড়ের।












Click it and Unblock the Notifications