International women's Day 2025: জীবনের ঝুঁকি নিয়েই স্বপ্ন পূরণ, পর্বত জয়ই প্রথম ভালবাসা পিয়ালির
একজন নারী হলেন সমাজের পূর্ণ বৃত্ত। তাঁর ভেতরেই সৃষ্টি, লালন, পালন এবং কখনও হার না মানার অদম্য শক্তি রয়েছে। নারীরাই হলেন সমাজের আসল স্থপতি। এমনই এক নারীর খোঁজে আমরা চলে গিয়েছিলাম চন্দননগরে পর্বত কন্যা পিয়ালি বসাকের বাড়িতে। প্রতিকূল পরিস্থিতি তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তুষারঝড়ের মধ্যেও এভারেস্টের চূড়াকে পাখির চোখ করে এগিয়ে গিয়েছেন পিয়ালি। দুর্গম পথ অতিক্রম করে একে একে জয় করেছেন ছ'টি পর্বতশৃঙ্গ।
সাধারণ মানুষ যেখানে কৃত্তিম ভাবে দেওয়া অক্সিজেন ছাড়া কয়েক মিনিটের বেশি বেঁচে থাকতে পারবেন না, সেই এভারেস্ট পিয়ালি জয় করেছেন বিনা অক্সিজেনে! কিভাবে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন পাহাড় কন্যা? উত্তরে জানালেন মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে হিমালয়ের কোলে যাতায়াত তাঁর। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেও লড়াই করে চলেছেন নিরন্তর। বাবা মা চেয়েছিলেন লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হন পিয়ালী। পাঠ্যপুস্তকে শের পা তেনজিং নোরগের গল্প পড়ে, প্রথম হাতছানি দিয়েছিল স্বপ্ন। অবশেষে সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে জয় করেছেন পিয়ালি বসাক।

ছবি সৌজন্য- pexels
পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর শৃঙ্গ অন্নপূর্ণা। অন্নপূর্ণা বিজয় এক কথায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার থেকে কম কিছু নয়। কিন্তু যমরাজকেও টেক্কা দিয়ে সেই অসাধ্য সাধন করেছেন পিয়ালি। পদে পদে বিপদ, প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে প্রকৃতি একটু অসতর্ক হলেই জীবনযাত্রা শেষ। কিন্তু তাও কোন নেশায় পর্বত আরোহণকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানালেন তিনি? আসলে পর্বত আরোহন যত ঝুঁকিপূর্ণই হোক না কেন সেটাই তাঁর প্রথম ভালবাসা। আর জীবনের প্রথম প্রেমকে ভুলে থাকা অসম্ভব।
২০১৮ সালে মানাসুলু, ২০২১ সালে ধৌলাগিরি, ২০২২ সালে এভারেস্ট ও লোৎসে জয়। তার পর ২০২৩-এর এপ্রিল ও মে মাসে অন্নপূর্ণা ও মাকালু জয় করেন পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক। এবার তাঁর লক্ষ্য পৃথিবীর ১৪ তম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ শিশাপাংমা এবং পৃথিবীর ষষ্ঠ উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ চৌ ওয়ু। দুটোই চিনে অবস্থিত। অক্সিজেন ছাড়াই এই দুই শৃঙ্গ জয়ের ইচ্ছা পিয়ালী বসাকের। প্রত্যেকবারের মতো সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্ন পর্বতকন্যার চোখে। ওয়ান ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।












Click it and Unblock the Notifications