প্রতিশোধ নিয়েই 'ঘরে' ফেরার রাস্তা তৈরি করে রাখলেন নির্দল প্রার্থীরা, শক্তি বাড়ছে তৃণমূলেরই
কলকাতা পুরভোটে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তৃণমূল। একাই ১৪৪টির মধ্যে ১৩৪টি আসন জয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। বিরোধীরা কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারেনি। তিন বিরোধী দলের পাশাপাশি তিন নির্দল প্রার্থীও জয় পেয়েছে।
কলকাতা পুরভোটে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তৃণমূল। একাই ১৪৪টির মধ্যে ১৩৪টি আসন জয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। বিরোধীরা কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারেনি। তিন বিরোধী দলের পাশাপাশি তিন নির্দল প্রার্থীও জয় পেয়েছে। আর কলকাতা পুরভোটে তৃণমূলকে হারিয়েই তাঁরা ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার।

নির্দল প্রার্থীরা জয়ের পরই যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে অচিরেই তৃণমূলের জেতা ওয়ার্ড সংখ্যা ১৩৪ থেকে ১৩৭-এ হতে চলেছে। অর্থাৎ ৯২ শতাংশ থেকে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ৯৫ শতাংশে পৌঁছে যেতে চলেছে। তৃণূমূলের বিক্ষুব্ধ হয়ে তিন জন নির্দল প্রার্থী হয়েছিলেন। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আয়েশা কনিজ, ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুবিনা নাজ এবং ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা নস্কর। তিনজনেই তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন। তারপরই তৃণমূলের ফেরার বার্তা দেন।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সগুফতা পারভিনকে হারান আয়েশা কনিজ। তিনি এই জয়ের পরে বলেন, ওয়ার্ডের মানুষের দাবি ছিল আমি প্রার্থী হই। সেই কারণেই দলের টিকিট না পেয়ে দাঁড়িয়েছিলাম নির্দল হয়ে। মানুষই আমাকে রায় দিয়েছেন। এবার তাঁদের জন্য কাজ করতে চাই। আর দিদিও মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তাই তৃণমূলে চাইলে আমরা যোগ দিতেই পারি।
তেমনই কলকাতা বন্দর এলাকায় ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সরকারি প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন রুবিনা নাজ। তাঁকেও ওয়ার্ডের মানুষ বেছে নিয়েছেন। তাঁর তৃণমূলে ফেরা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আর ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা নস্কর দলের নতুন প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নির্দল হিসেবে ভোট দাঁড়িয়েছিলেন। মানুষ তাঁর পক্ষেই রায় দেন। তিনিও তৃণমূলে ফিরতে চান।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন নির্দল প্রার্থীকেই দলে নেওয়া হবে। ফলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১৩৪ থেকে বেড়ে হবে ১৩৭। জিততে না জিততেই দলবদলের পরিকল্পনা এবং যোগদানের পরিকল্পনা সেরে ফেললেন তাঁরা। তৃণমূল শুধু এবারই নয়, আগেরবার অর্থাৎ ২০১৫ সালেও তিন নির্দল প্রার্থীকে যোগদান করিয়েছিল। তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে এবারও।
এর ফলে তৃণমূলের পক্ষে ১৩৭ এবং বিরোধী পক্ষে তিন দল মিলিয়ে ৭ হল কলকাতা পুরসভার সমীকরণ। ১৩৭-এর বিপক্ষে মাত্র সাত। বিজেপির তিন, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ২ জন করে কাউন্সিলর নিয়েই হাউস চলবে। ফলে বিরোধী কণ্ঠস্বর যে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হবে, তা বলাই যায়। তৃণমূল শক্তি বাড়াতে বাড়াতে প্রায় বিরোধীশূন্য করার দিকে নিয়ে চলে গিয়েছে কলকাতার ছোট লালবাড়িকে।












Click it and Unblock the Notifications