দিল্লিতে 'মহাগুরু' নিয়েছিলেন কোটি কোটি টাকা, সারদা কাণ্ডে সুদীপ্ত সেনের 'স্যার'কে নিশানা একদা সঙ্গীর
২০১১-তে তৃণমূল (trinamool congress) ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের সব থেকে যে কেলেঙ্কারি সামনে এসেছিল তা হল সারদা (saradha) চিটফান্ড। ২০১৩-তে এই কেলেঙ্কারি সামনে আসলেও, তার সমাধান এখনও অধরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেল থেকে ব
২০১১-তে তৃণমূল (trinamool congress) ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের সব থেকে যে কেলেঙ্কারি সামনে এসেছিল তা হল সারদা (saradha) চিটফান্ড। ২০১৩-তে এই কেলেঙ্কারি সামনে আসলেও, তার সমাধান এখনও অধরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেল থেকে বসে লেখা সুদীপ্ত সেনের (sudipta sen) চিঠি নিয়ে শোরগোল হয়েছিল। এবার সুদীপ সেনের তৎকালীন সহযোগী মনোজ নাগেলের (manaj nagel) অভিযোগে একমাত্র স্যার (sir)-এর দিকে।

২০১৩-র এপ্রিলের শেষে সারদা মামলায় প্রথম গ্রেফতার
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মনোজ নাগেল জানিয়েছেন, তিনিই সারদা মামলায় প্রথম গ্রেফতার হন। তিনি বলেছেন, যখন সুদীপ্ত সেনকে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন সবাই আন্দোলনমুখী। আলোচনা করে আবেদনপত্র লিখে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যান। ওখান থেকে মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে বলা হয়। ওখান থেকে রাজীব কুমার ফোন করেন। মুকুলদার সঙ্গে কথা বলেই তিনি যান রাজীব কুমারের কাছে। মনোজের দাবি মুকুল রায় তাঁকে ভাল ছেলে বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে মুকুল রায় কেড়ে নিয়েছিলেন ৮০ কোটি টাকা
মনোজ নাগেল অভিযোগ করেছেন, মুকুল রায় সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে ৮০ কোটি টাকা কেড়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একজনকে দেওয়া টাকা সম্পর্কে সুদীপ্ত সেন বলেনি। সেই ব্যক্তি হলেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, তিনি (মনোজ নাগেল) সুদীপ্ত সেনকে একদিনের একটা অ্যামাউন্ট মনে করাতে চান। গাড়িতে করে দিল্লিতে সেই টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই টাকা মুকুল রায় নিয়ে নিয়েছিলেন। মনোজের দাবি সুদীপ্ত সেন সেই দুঃখের কথা তাঁর (মনোজ) কাছেও করেছিলেন। একবারেই সুদীপ্ত সেন আশি কোটি দিয়েছিলেন, তবে বাকি বছরে আর কী দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। সেই টাকা কোথায় গেল প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। স্যালারি পেয়ে গেলেই ফেরত দিয়ে দেবো, তা বললেই কি মুক্তি, প্রশ্ন করেছেন একদা সুদীপ্ত সেনের সহযোগী। তিনি আরও বলেছেন মা সারদার নাম করে চিটির করা হয়েছে।
মনোজ নাগেল বলেন, সারদায় কাজ করে তিনি নাজেহাল। এখন থালা ধুয়ে খান। সুদীপ্ত সেন তাঁকে কবে ডিরেক্টর বানিয়েছেন, আর কবে জিএম, তা তিনি জানতেই পারেননি।

সুদীপ্ত সেনের একমাত্র 'স্যার'
মনোজ নাগেল সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাবি করেছে, বিষয়টি তিনি সিবিআই-এর কাছে জানিয়েছিলেন। তবে ভোটের আগে বিষয়টি সামনে আনেননি তিনি। মনোজ বলেন, দরকারে তিনি গোপন জবানবন্দি দেবেন। এব্যাপারে অনেকেই জানেন বলে দাবি করেছেন মনোজ। তবে সবার নিরাপত্তার দাবি করেছেন তিনি। সারদা তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন এই মামলায় প্রথম গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি।
মনোজ নাগেল বলেছেন, সুদীপ্ত সেন একজনের সঙ্গে কথা বললেও, ফোন আসার সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াতেন। তাঁর আরও দাবি, আর একমাত্র ব্যক্তি, যাঁকে সুদীপ্ত সেন স্যার বলতেন, তিনি হলেন মুকুল রায়। তাঁর স্যারের স্যার, গুরুর গুরু মহাগুরু। মনোজের প্রশ্ন এই মামলায় মুকুল রায় কেন এখনও বাইরে থাকবেন। তিনি বলেছেন, আইনের প্রতি ভরসা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আর পেরে উঠছেন না।

ভোটের আগে সুদীপ্ত সেনের চিঠি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত
ভোটের আগে জেল থেকে লেখা সুদীপ্ত সেনের চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল ( চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গলি ওয়ান ইন্ডিয়া)। সেই চিঠিতে সুদীপ্ত সেন বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। যার বিষয় বস্তু তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিল ব্যাঙ্কশাল আদালত।












Click it and Unblock the Notifications