নিয়োগ দুর্নীতির মামলার প্রভাব আদিবাসী বিদ্যালয়ে! স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে নির্দেশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির
বিদ্যালয়ে ছাত্র থাকলেও নেই কোনও শিক্ষক। সামনে পরীক্ষা, বিপাকে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীরা। নিয়োগ দুর্নীতির মামলার প্রভাব পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার আদিবাসী বিদ্যালয়ের ওপরে গিয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আদিবাসী সমাজের প্রয়োজনীয়তা ও স্থানীয় মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই বিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন দেয় শিক্ষা দফতর। ২০১৪ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের অনুমোদন পায় বুনিয়াবসন জুনিয়ার হাইস্কুল।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার অন্তর্গত বুনিয়াবসন গ্রাম মূলত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। ওই গ্রামে প্রায় হাজার পরিবারের বাস। গ্রামের অধিবাসী শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সেই সময় বিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের অনুমোদনের পরেই সেখানে অতিথি শিক্ষক নিযুক্ত হয়। ২০১৭ সালে স্বপনকুমার দাসকে ওই স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০২৩-এর ৩১ মার্চ স্বপনকুমার দাসের নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়। যার জেরে চলতি বছরের ৩১ মার্চের পর থেকে সেখানে অতিথি শিক্ষক হিসেবে আর কেউ নেই।
বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন উত্তরকুমার মণ্ডল। তাঁর আইনজীবীর বলেন, চলতি বছরের ৩১ মার্চের পর থেকে অতিথি শিক্ষক স্বপনকুমার দাস বিদ্যালয়ে আসছেন না। ওই বিদ্যালয়ে কোনও শিক্ষক নেই। সামনে পরীক্ষা, ফলে বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।

রাজ্যের আইনজীবীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, এটা কী করে সম্ভব। শিক্ষক ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কি করে সম্ভব? সরকারি আইনজীবী তখন বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টির দেখে স্কুল সার্ভিস কমিশন। যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত, তাই নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না।
সেই সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সরকারি আইনজীবীকে নির্দেশ দেন, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে ২ সপ্তাহের মধ্যে সাময়িকভাবে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা চালু রাখতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications