বিলের টাকা না মেটালে হোমে চালান করে দেওয়া হবে মেয়েকে, নার্সিংহোমের হুঁশিয়ারিতে আত্মঘাতী বাবা
বিলের টাকা না পেলে রোগীকে হোমে পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। নার্সিংহোম থেকে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন বাবা।
বর্ধমান ও ঝাড়গ্রাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি : বিলের টাকা না পেলে রোগীকে হোমে পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। নার্সিংহোম থেকে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন বাবা। আবারও অমানবিক নার্সিংহোম। এবার অমানবিকতা বর্ধমানে। কাঠগড়ায় বর্ধমানের নবাবহাটের পিজি নার্সিংহোম। মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক-নিদানের পরেও শহর থেকে গ্রাম- রাজ্যে সমস্ত নার্সিংহোম একই রোগে আক্রান্ত।[রাজ্য সরকারের তরফে যে অভিযোগগুলি তোলা হয় নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে]
গত ৭ ফেব্রুয়ারি রামপুরহাটে হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেন ঝুমকি লেট। তারপর তাঁর শারীরিক অবস্থান অবনতি হলে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেইমতো অ্যাম্বুলেন্স চালক রোগীকে নিয়ে বর্ধমান হাসপাতালে আসছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগ, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স চালক রোগীর পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে বর্ধমানেরই পিজি নার্সিংহোমে ভর্তি করিয়ে দেন।[স্বাস্থ্য পরিষেবায় নজরদারিতে হেলথ রেগুলেটরি কমিশন বিল আনছেন মুখ্যমন্ত্রী]

এরপর নার্সিংহোমে তিনদিনেই বিল ধরায় ২৫ হাজার টাকা। মাথায় হাত পড়ে যায় পেশায় ক্ষেতমজুর তপন লেটের। ঝাড়গ্রামের মুরুটি গ্রামের বাসিন্দা। মেয়েকে নার্সিংহোমে ফেলে রেখেই তিনি ফিরে যান গ্রামে। টাকা জোগাড় করে মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নইলে মেয়েকে হোমে পাঠিয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ার দিয়েছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ![অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষকে চরম হুঁশিয়ারি মদন মিত্রের]
গ্রামে এসে চেয়েচিন্তে মাত্র ১৩ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারেন তিনি। কিন্তু পুরো টাকা না দিলে যে মেয়েকে ছাড়বে না। তাই হতাশ হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশে একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর। এরপরই নমনীয় হয় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তারা ছাড় দিয়ে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে রোগীকে ছেড়ে দেয় তাঁরা। কিন্তু তখন ঝুমকির বাবা তপন লেট নেই। হতাশা-অবসাদে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এই ঘটনার তদন্ত নেমেছে পুলিশ।[অবিশ্বাস্য : কবর দেওয়ার সময় কেঁদে উঠল মৃত সদ্যজাত]












Click it and Unblock the Notifications