জ্বর কমেছে? বাবাকে জেল থেকে ফিরিয়ে আনব আমিই, ফিরহাদের পরিবারকে আশ্বাস মমতার
তাঁর কাছাকাছি যারা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভরসার জায়গা ফিরহাদ হাকিম। আর তাই করোনা নিয়ে কার্যত বিধ্বস্ত বাংলা তখন তা সামলাতে ফিরহাদ হাকিমকেই দিয়েছেন গুরু দায়িত্ব। ভ্যাকসিন বন্টন থেকে মৃতদেহ পোড়ানো সবটাই দেখত ফিরহাদ।
তাঁর কাছাকাছি যারা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভরসার জায়গা ফিরহাদ হাকিম। আর তাই করোনা নিয়ে কার্যত বিধ্বস্ত বাংলা তখন তা সামলাতে ফিরহাদ হাকিমকেই দিয়েছেন গুরু দায়িত্ব। ভ্যাকসিন বন্টন থেকে মৃতদেহ পোড়ানো সবটাই দেখত ফিরহাদ।
কিন্তু বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর না থাকাতে যে করোনা মোকাবিলাতে বেশ সমস্যা হচ্ছে তা কার্যত মেনে নিচ্ছেন অনেকেই। এমনকি আজ বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফিরহাদের না থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিকেলেই ফিরহাদের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন মমতা
ফিরহাদের জন্যে দুপুরেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন তাঁর কথা। আর বিকেলেই নবান্ন থেকে কালীঘাট ফেরার পথে পৌঁছে গেলেন প্রিয় ববির বাড়িতে। চেতলায় ফিরহাদ হাকিমের বাড়িত গিয়ে এদিন ফিরহাদের মেজো মেয়ে সাবা হাকিমের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। উদ্বিগ্ন তৃণমূলনেত্রী খোঁজ নিলেন ফিরহাদ হাকিমের স্বাস্থ্যের, খুঁটিয়ে জানতে চান তাঁর জ্বর কমেছে কিনা, পেটের সংক্রমণের অবস্থা কেমন। সমস্ত বিষয়ে জানতে চান।

একাধিকবার জেলে গিয়েছেন পরিবারের লোকেরা
বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে কালীঘাটে যাওয়ার পথে তিনি হঠাৎ করেই চলে যান চেতলায়। কনভয় দাঁড়িয়ে রাস্তায়। তিনি পৌঁছে যান ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির সামনে। যদিও সেই সময়ে ববি'র স্ত্রী ও বড় মেয়ে বাড়িতে ছিলেন না। দু'জনেই ছিলেন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে পৌঁছে এই বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি কথা বলেন সাবা হাকিম ও আফসা হাকিমের সাথে। ববির দুই মেয়ের থেকেই তিনি জানতে চান তাঁদের বাবা কেমন আছেন। শারীরিক সমস্যা কী কী আছে, সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ আপডেট নেন। এর পরে তিনি ফোন করেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী'কে। তিনি বাড়িতে এসেছেন জানতে পেরে ফিরহাদের মেয়ে প্রিয়দর্শিনীকে তড়িঘড়ি যেতে বলেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী। কিন্তু ততক্ষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে ফোনে তিনি কথা বলেন ফিরহাদ কন্যার সঙ্গেই।

জেল থেকে ছাড়িয়ে আনবই
ফিরহাদের গ্রেফতার হওয়ার পরেই নিজাম প্যালেসে ছুটেছিলেন তিনি নিজে। এবার ফিরহাদের বাড়িতে গিয়ে তিনি বলে এলেন, 'ববিকে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার'। শুধু তাই নয়, দুই মেয়েকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মমতা বলেছেন, 'ববিকে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার। ববি আমার দলের একনিষ্ঠ সৈনিক। ওকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। ও কলকাতা পুরসভায় না থাকায় কলকাতায় কোভিড মোকাবিলায় সমস্যা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণদিতভাবে ওকে আটকে রাখা হয়েছে। পরিবারের সবাই যাতে সুস্থ থাকেন, খাওয়া দাওয়া করেন, সে কথাও বলে এসেছেন মমতা। মন্ত্রীর মেয়েরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানা গিয়েছে, মিনিট ১৫ সেখানে থেকে কথাবার্তা বলেন মমতা।

ববি সারাক্ষণ ফিল্ডে থেকে কাজ করে বেড়ায়
মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করা কোভিড টাস্ক ফোর্সের দায়িত্বে ছিলেন। অনেক সিদ্ধান্ত তাঁর কাঁধেই ছিল। কিন্তু গ্রেফতারের পরে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম-সহ রাজ্যের চার হেভিওয়েটের গ্রেপ্তারি এখন আদালতের বিষয়। তাই সেসব নিয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও কঠিন সময়ে 'ববি'কে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ গোপন করতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, 'ববি সারাক্ষণ ফিল্ডে থেকে কাজ করে বেড়ায়। আর এই করোনা আবহে ওকে তিন চারদিন আটকে রেখেছে। আমরা অন্যভাবে কাজটা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু একজনের পরিবর্ত কী আর আরেকজন হয়?

ববি মাঠে নেমে কাজ করে
তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে বারবার উঠে এসেছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার পুর প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিমের নাম। তিনি বলেছেন, "ববি মাঠে নেমে কাজ করে। ওঁর টিম মাঠে নেমে কাজ করে। আর সেই ছেলেটাকে, সুব্রতদাকে তিন-চারদিন আটকে রাখল। ওদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে! যে ছেলেটি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দিয়েছে, সেই ছেলেটাকে... এর যোগ্য জবাব... বিচারের বাণী...আমি আশা করব...।" বলতে বলতে বারবার থেমে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হয়তো বিচারাধীন বিষয়ে বেশি বলতে চান না বলে। তবে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ,"তিন-চারদিন ববি কাজ করতে পারল না, সুব্রত দা কাজ করতে পারল না। কোথাও ডেডবডি জমেছে কিনা আমাকেই খবর নিতে।












Click it and Unblock the Notifications