"আমি ভেবেছিলাম, ও ভালো মানুষ", এসএসকেএম হাসপাতালের নৃশংসতার অন্ধকার গল্প
চিকিৎসার জায়গা, যেখানে মানুষ সুস্থতার আশায় আসে,আর সেই হাসপাতালেই ভরসা ভেঙে চুরমার করে দেয় এক কিশোরীর জীবন। রাজ্যের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম এখন প্রশ্নের মুখে।
বুধবারের দুপুরে মনোরোগ বিভাগের অপেক্ষাঘরে বসেছিল এক কিশোরী, পাশে মা ও দাদু। হঠাৎই আসে সাদা পোশাক পরা এক যুবক। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলে, "ডাক্তারবাবু ডাকছেন।"
কেউ সন্দেহ করেনি। সাদা পোশাক, হাসপাতালের চিহ্ন, সবই বিশ্বাসযোগ্য। আর সেই বিশ্বাসের জালেই বন্দি হল কিশোরীটি।

কয়েক মিনিট পর, পুরুষদের শৌচালয় থেকে ভেসে এল আতঙ্কিত চিৎকার। ছুটে যায় হাসপাতালের কর্মীরা। দরজা ভেঙে দেখা যায়, এক নৃশংস দৃশ্য। ঘটনাস্থলেই ধরা পড়ে অভিযুক্ত।
মেয়েটির চোখ ভরা জল, কণ্ঠ কাঁপছে। পরে মায়ের প্রশ্নে তার উত্তর যেন গোটা সমাজের বিবেককে বিদ্ধ করে দেয়,
"আমি ওকে ভালো মানুষ ভেবেছিলাম মা..."
এই একটিমাত্র বাক্যই বলছে, কত সহজে বিশ্বাসকে ব্যবহার করে শিকার বানানো যায় নিষ্পাপতাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়েছিল। পকসো আইনে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা হবে তার। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে ধৃত।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে, কিশোরীকে নিয়ে শৌচালয়ের দিকে যাচ্ছিি অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, ওই যুবক আগে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করত, সেই সূত্রেই এসএসকেএমের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত ছিল।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হাসপাতালের সাদা পোশাক, যা একসময় আশার প্রতীক ছিল, আজ যেন সন্দেহের ছায়ায় ঢেকে গেছে।
নির্যাতিত কিশোরীর একটি সরল বিশ্বাস"ওকে ভালো মানুষ ভেবেছিলাম..." যা এখন হয়ে উঠেছে সমগ্র সমাজের এক মর্মান্তিক শিক্ষা,
বিশ্বাসও কখনও কখনও বিপদের অন্য নাম হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications