'ইনি মনে হচ্ছে ধৈর্য হারাচ্ছেন, ১০ টি দাবি কী পরিষ্কার?' মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা প্রশ্ন অনশনরত চিকিৎসকদের
Doctor Hunger Strike: ঘোষিত কর্মবিরতি আমরা তুলে নিয়েছি। মাত্র আট জন অনশনে বসে আছি বলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে? সঠিক তথ্য কি যাচ্ছে না। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন অনশনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। আজ শনিবার অনশনের ১৫ দিন। দীর্ঘ অনশনে ক্রমশ অসুস্থ হচ্ছে শরীর। এই অবস্থায় হঠাত করেই অনশন মঞ্চে পৌঁছে যান মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব।
কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হিসাবেই সেখানেই পৌঁছন তাঁরা। এমনকি মুখ্যসচিবের ফোনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জুনিয়র চিকিৎসকদের সমস্ত দাবি শোনার পাশাপাশি চিকিৎসকদের (Doctor Hunger Strike) দ্রুত কাজে ফেরার কথা বলেন তিনি (West Bengal CM)।

এমনকি আগামী সোমবার বিকেল পাঁচটার নবান্নে বৈঠক হবে বলেও জানান প্রশাসনিক প্রধান। আর এরপরেই সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা জানালেন জুনিয়র চিকিৎসকরাও। তাঁদের কথায়, আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে বলে হুঁশিয়ারি।
আন্দোলনকারীদের কথায়, অনশনের দিন সকালেও কাজ করে এসেছি। এরপরেও কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী বললেন আটজনের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা ব্যহত হচ্ছে? অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসক সায়ন্তনী ঘোষ হাজরা এই প্রসঙে জানান, 'আমাদের মনে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দশ দফা দাবি স্পষ্ট ভাবে জানেনই না। ওনাকে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধৈর্য হারাচ্ছেন বলেও মনে হচ্ছে দাবি করেন।
আর তাতে আমরা হতাশ এবং দুঃখিত বলে মন্তব্য করেন। তবে সরাসরি আমাদের মুখ থেকে শুনলে হয়ত দাবি বুঝতে সুবিধা হবে বলে মন্তব্য আন্দোলনকারীদের। অন্যদিকে আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হলেও সমস্ত কর্মসূচি যেমন ভাবে ঘোষণা হয়েছে তা চলবে বলেও জানানো হয়েছে বলে চিকিৎসকদের তরফে।
জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, ন্যায়বিচার এখনও মেলে নি। মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা অভিভাবিকার জায়গায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবিকে ফের আরও একবার সমর্থন জানিয়ে রাজ্যকে 'রাজধর্ম পালনে'র পরামর্শ দিলেন অ্যাসোসিয়েশান অব হেল্থ সার্ভিস ডক্টরসের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক মানস গুমটা।
শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'প্রশাসন জুনিয়র চিকিৎসকদের বাধ্য করেছে আন্দোলনের পথে যেতে, বাধ্য করেছে অনশনে বসতে'। একই সঙ্গে 'প্রশাসন অমানবিক-অসংবেদনশীল' ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন।
মানস গুমটার কথায়, 'ওরা (আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা) যা দাবি করছে তা মানুষের দাবি, ওই দাবি অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবি, ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, মানুষের স্বাস্থ্যের দাবি, আছে ভয়ের সংস্কৃতি দূর, দূস্কৃতিরাজ, দূর্ণীতি বন্ধের দাবি'। তবে এখনও পর্যন্ত কোন দাবিই মানা হয়নি বলেও এদিন মন্তব্য করেন মানস গুমটা। তাঁর কথায়, এই অবস্থায় মানুষের ক্ষোভ, ক্রোধ বাড়ছে। আর যার প্রমাণ মিলেছে দ্রোহের কার্ণিভালেই। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের 'রাজধর্ম' পালন করা উচিৎ।












Click it and Unblock the Notifications