এক অদ্ভুত 'নেশা'য় দার্জিলিং ছুটছেন হাজার হাজার মানুষ, পাহাড়ি রাস্তায় তীব্র যানজট!
Darjeeling: গ্রীষ্মকাল মানেই ছুটি, আর ছুটি মানেই পাহাড় রাণী দার্জিলিং। চলতি এপ্রিল থেকেই দার্জিলিং শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মরসুম। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫০০-র বেশি পর্যটক ভিড় জমাচ্ছে চিড়িয়াখানায়। পাশাপাশি টয় ট্রেন, টাইগার হিল সব পর্যটন কেন্দ্রেই উপচে পড়ছে ভিড়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন পর্যটকরা আসছেন, তেমনই বিদেশি পর্যটকরাও দার্জিলিংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এখানে ছুটে আসছেন।

সমতলে গরমে হাঁসফাঁস তবে পাহাড়ে স্বস্তি আবহাওয়া। সমতলের যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির আশেপাশে, তখন দার্জিলিংয়ে (Darjeeling) দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই পাহাড়ের রানি (Darjeeling)।
এপ্রিলে একাধিক সরকারি ছুটির সুবাদে প্রচুর বাঙালি পর্যটক ভিড় করেছে পাহাড়ে। আবার ৩০ এপ্রিল থেকে সরকারি স্কুলগুলির গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হচ্ছে, ফলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের জন্য প্রায় সব হোটেলের বুকিং ইতিমধ্যেই পূর্ণ।
অনেক পর্যটকেরা প্রথমবার দার্জিলিং এসেছেন। কলকাতা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, "পরিবার নিয়ে এসেছি। ভাবিনি এখানে এত ঠাণ্ডা। গরম জামা কিনতে হয়েছে, কিন্তু বেশ মজা লাগছে। চিড়িয়াখানা আর আশেপাশের জায়গাগুলো খুব সুন্দর।"
অন্য এক পর্যটক, যিনি অন্য রাজ্য থেকে প্রথমবার দার্জিলিং এসেছেন, তিনি জানান "আমি ভাবছিলাম ২০ ডিগ্রি হবে, কিন্তু এখানে ১০ ডিগ্রি অনুভূত ! খুব ভালো লাগছে। চিড়িয়াখানায় এত সুন্দরভাবে পশুদের রাখা হয়েছে, দেখে ভালো লাগছে।"
চিড়িয়াখানা আধিকারিকের মন্তব্য "প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫০০-র বেশি পর্যটক আসছেন। দুর্গাপুজো মরসুমের তুলনায় এবার গ্রীষ্মকালীন মরসুম অনেক ভালো যাচ্ছে।" হোটেল মালিকের বক্তব্য "মে মাসের শুরুতে প্রায় সমস্ত বুকিং পূর্ণ। পর্যটকদের ভিড় এবার অনেক বেশি। এই বছরটা সম্ভবত দার্জিলিংয়ের জন্য সেরা গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মরসুম হতে চলেছে।"
বলা বাহুল্য গত পূজা, বড়দিন বা নববর্ষে পর্যটক সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও, এবারের গ্রীষ্মকালীন মরসুম দার্জিলিং জন্য এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঠাণ্ডা আবহাওয়া আর এক টুকরো স্বস্তির খোঁজে পর্যটকরা যেন আবার ফিরে এসেছেন হিমালয়ের কোলে। তবে একটাই চ্যালেঞ্জ! পর্যটকদের ভিড়ের চাপে পাহাড়ের রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে একাধিক গাড়িকে। যা নিয়ে একটা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে পর্যটকদের মধ্যে।












Click it and Unblock the Notifications