শুভেন্দুদের মাত দিতে তৃণমূলের থিঙ্কট্যাঙ্কের পাখির চোখ কোন ভোটব্যাঙ্ক
উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহারের মতো গোবলয়ের রাজ্যে জাতিভিত্তিক মেরুকরণের রাজনীতি ভোটের মরশুমে চেনা ছবি। সেই ছবি এবার বাংলার ভোটেও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। বাংলায় বাম আমলে শ্রেণি সংগ্রামকে সামনে রেখেছে অনগ্রসর বহু জাতি ও গোষ্ঠীকে আগে সামনে রেখে বাংলার বুকে এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনীতির ছবি তৈরি হয়। পরবর্তীকালে শাসকের চেয়ারে বসে তৃণমূল। যাদের সামনে ২০১৯ সালে লোকসভা ভোট পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। দেখা যাক, এবারের ভোটে মমতা শিবির এই জাতিভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে কোন পথে হাঁটছে।

লালদূর্গ দমনে মমতার পাশে কারা ছিলেন?
এককালে বাংলায় শ্রেণি বৈষম্য ঘোচাতে বামেরা বহু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১১ সালে লাল দূর্গ ভেঙে যখন মমতা বাংলা জয় করল, তখন তাঁর সহযোগী ছিল কামতাপুরি, রাজবংশী,লোধা , শবর, গোর্খা, বাগদি, বাউরির মতো বহু জাতি। যাঁদের ভোটব্যাঙ্ক মমতাকে সাফল্যের শিখর অনে দিয়েছে ২০১৬ তেও। একনিষ্ঠভাবে মমতার সঙ্গে বহুকাল ছিল মতুয়ারা। তবে তৃণমূল শিবিরে উদ্বেগের ভাঁজ পড়তে শুরু করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে।

২০২১ বিধানসভাকে ঘিরে বিজেপ-তৃণমূল স্ট্র্যাটেজি ও জাতি ভিত্তিক ভোট
প্রসঙ্গত, বাংলার বুকে এসে অমিত শাহ যেখানে বলছেন ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণের কথা, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পিছিয়ে না থেকে দুয়াসে সরকারের মাধ্যমে কাস্ট সার্টিফিকেট বিলির উদ্যোগ নিয়েছেন। যে পদক্ষেপগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে মমতা বনাম শুভেন্দুদের ডুয়েলে জাতি ভিত্তিক ভোট বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোট বনাম জাতি ভিত্তিক ভোট
বাংলায় বিজেপির রমরমা শুরুর সময় থেকেই ভোটের মেরুকরণ স্পষ্ট হতে থাকে। ২০১৬ সালে মমতার তৃণমূল ২১১ টি আসন পেয়েছিল । যার মধ্যে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক মমতাদের ঘরে ৯৮ টি আসন এনে দেয়। এই আসনে সংখ্যালঘুদের ভোট শেয়ার ছিল ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এদিকে, মমতার সেই সাফল্যের পিচে ২০১৪ সাল থেকে টার্গেট শানাতে থাকে বিজেপি। বাংলায় বিজেপির প্রধানের তখতে তখন দিলীপ ঘোষ। হিন্দুত্বের কার্ডে যখন বিজেপি সমস্ত হিন্দু জাতি ও গোষ্ঠীগুলিকেও তাদের ভোটব্যাঙ্কের আওতায় নিয়ে চলে এল, তখন ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলকে উদ্বেগে ফেল দেয়। দেখা যায় বাংলার বুকে সম্প্রদায় ভোট ব্যাঙ্কের মধ্যে জাতি ভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কও নতুন তাৎপর্য নিয়ে আসছে।

হৃত জমি পুনরুদ্ধারে মমতার পদক্ষেপ
প্রসঙ্গত, ২০১৯ লোকসভা ভোটে বাম ও কংগ্রেসের পক্ষে থাকা ৩০ শতাংশ সমর্থক (যাঁরা দলিত, এসটি, এসটি ও ওবিসির মধ্যে পড়েন) বিজেপিকে ভোট দেয়। যা উদ্বেগে ফেলে ঘাসফুল শিবিরকে। এরপর মমতার ভোট- সারথীর ভূমিকায় নামেন প্রশান্ত কিশোর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধাপে ধাপে এই ভোটব্যাঙ্ক নিজের দিকে আনার চেষ্টা করতে থাকেন। জঙ্গলমহলে কুর্মি গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে , পশ্চিম মেদিনীপুরে সভায় জোর দেন দিদি। এই কুর্মীরা বাংলার ৩৮-৪০ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক দখলে রেখেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে ২০১৯ সালে বাউরি, বাদি ভোটও বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। ২০২১ এর ভোট আসতেই মমতা এই জাতিগোষ্ঠীর জন্য আলাদা স্কিম তৈরি করার কথা ঘোষণা করেন। এছাড়াও ১৩- থকে ১৫ শতাংশ নস্য শেখ গোষ্ঠীকে নিজের দিকে রাখতেও মমতা বহু ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications