কংগ্রেস, আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা কীভাবে? নিজে কটি আসনে লড়বে সিপিএম?
আসন বন্টন সমস্যা নিয়ে কতটা সমস্যায় পড়তে পারে সিপিএম? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইন্ডিয়া জোটের শরিক হিসেবে সিপিএম কংগ্রেস হাত মেলাবে। এই কথা পরিষ্কার। তৃণমূল একাই ৪২ টি আসনের প্রার্থী দিয়েছে। ফলে সমীকরণ সেই পথে এগোচ্ছে। অন্য দিকে আরও একটি সমস্যা রয়েছে। কারণ, বামেদের সঙ্গে রাজ্যে জোটে রয়েছে আইএসএফ।
আইএসএফ এবার লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করবে। নিজেদের শক্তি মতো তারা বাছাই করা কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে। এই কথা শোনা গিয়েছিল। এছাড়াও বামেদের অন্যান্য শরিক দল সিপিআই, আরএসপি - রা আছে। ফলে ৪২ টি লোকসভা কেন্দ্রে আসন বন্টন কীভাবে হবে? তাই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

২০১৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের আসন সমঝোতা হয়নি। তবে এবার আসন সমঝোতা হওয়ার লক্ষ্যে প্রায় সবুজ সংকেত হয়ে রয়েছে। সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের একাধিক আসন কংগ্রেসকে ছাড়তে হতে পারে। মালদা, মুর্শিদাবাদের আসন কংগ্রেস চাইবে। রায়গঞ্জ কেন্দ্রেও কংগ্রেস লড়াই করবে। এমন কথা শোনা গিয়েছে।
এদিকে জানা যাচ্ছে, আইএসএফের তরফ থেকে সিপিএমের কাছে ১৪ টি আসন চাওয়া হয়েছে। আইএসএফ মূলত সংখ্যালঘু এলাকায় লড়াই করতে চায়। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়ার একাধিক আসন, বসিরহাট তারা চাইতে পারে। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে নওশাদ সিদ্দিকী নিজে দাঁড়ানোর কথা একসময় ইঙ্গিত করছিলেন।
কংগ্রেস, আইএসএফ কত সংখ্যক আসন চায়? সেদিকে নজর রয়েছে আলিমুদ্দিনের। কারণ, সিপিএমের অন্যান্য শরিক দলকেও আসন ছাড়তে হবে। এই অবস্থায় সিপিএমের নিজের হাতে কতগুলি আসন থাকবে? তাই নিয়ে জল্পনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল এলাকা একসময় সিপিএমের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ওটা ভোটব্যাঙ্কে গত দশ বছরে ধস নেমেছে। তৃণমূল ঘুরে সেই ভোটব্যাঙ্ক এখন বিজেপির দিকে।
কাজেই নিজেদের শক্তি দেখানোর জন্য সিপিএম কোন আসনগুলিকে বেছে নেয়? সেদিকে নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল। কংগ্রেস হাই কমান্ড থেকে এখনও কোনও জোটবার্তা আসন সমঝোতার বিষয় নিয়ে আসেনি। তৃণমূল একা ৪২ টি আসনে রাজ্যে প্রার্থী দিয়েছে। নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হবে। এমন কথা কংগ্রেসের হাই কমান্ডের ইঙ্গিতে পাওয়া গিয়েছে।
এই অবস্থায় সিপিএমের ভূমিকা কী হবে? প্রার্থী বাছাই থেকে তালিকা প্রকাশ। তাই নিও যথেষ্ট সময় যাবে। এর উপর আসন সমঝোতা নিয়ে কথার উপর কথা থাকছেই। একদিনে আসন সমঝোতা হয়ে যাবে? সেই প্রশ্ন উঠছে। লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশের আর বেশি সময় নেই। কবে আসন সমঝোতা হবে? সেই এখন বড় প্রশ্ন।
কংগ্রেসের সঙ্গে আইএসএফের সরাসরি কোনও জোট সম্পর্ক নেই। ফলে এই দুই রাজনৈতিক সঙ্গীকেও সিপিএম সমানভাবে চাইছে। দুই সঙ্গীকে সন্তুষ্ট করতে হবে। এই অবস্থায় নিজের কটি আসন পাবে সিপিএম লড়াই করার জন্য? প্রশ্ন উঠছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের উপর চাপ বাড়াচ্ছে সিপিএম। যদিও কংগ্রেস হাই কমান্ড থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। বিজেপি ও তৃণমূল প্রচারে নেমে পড়েছে। শেষ মুহূর্তে কতটা সময় পাবে সিপিএম ঘর গোছানোর জন্য? প্রচারেই বা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাবে? প্রশ্ন থাকছেই।












Click it and Unblock the Notifications