টেট নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস বিধায়কের! ভোটের মুখে চাপে শাসকদল
টেট নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস বিধায়কের! ভোটের মুখে চাপে শাসকদল
প্রাথমিক টেট নিয়ে বিতর্কে কম নেই। একাধিকবার তৈরি হওয়া বিতর্কে নাম জড়িয়েছে শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর। এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ টেটে নিয়োগ নিয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু। তাঁর বিরুদ্ধে টেট নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যদিও দলবদল করে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে। আর দলবদলের পরেই টেট নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। আর সেই বিতর্কে নাম জড়াতেই একের পর এক তথ্য ফাঁস করলেন বিধায়ক। কালনার এই বিধায়ক জানিয়ছেন, আমার বউ আর বৌদিকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছি। শুধু তাই নয়, নিজে ৬২ জন তৃণমূল কর্মীকে চাকরি দিয়েছেন বলে বিস্ফোরক মন্তব্য কালনার বিধায়কের। তাঁর এহেন মন্তব্যে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, টেট ইস্যুতে শাসকদলের উপর বিরোধীরা চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকি বিশ্বজিৎ কুন্ডুকে সামনে রেখে তৃণমূলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বিজেপি। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

২০১৪ সালের টেটে নিয়োগ হয়েছে তৃণমূলের লোকেদের
বিশ্বজিত কুন্ডুর বিস্ফোরক মন্তব্যে জেলায় প্রবল চাপে শাসকদল তৃণমূল। তিনি জানিয়েছেন, গত ২০১৪ সালে টেটে দুর্নীতি হয়েছে। শুধু দুর্নীতি নয়, যে সমস্ত নিয়োগ হয়েছে সমস্তটাই তৃণমূলের পছন্দের লোকেরা পেয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি বিধায়কের। সেই তালিকায় যে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন তা মেনে নিয়েছেন বিশ্বজিতবাবু। তাঁর দাবি, আমার বউ, আর বৌদি চাকরি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের আরও ৬২ জনের চাকরি তিনি যে করে দিয়েছেন তাও তিনি ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি ছাড়াও কোনও কোনও প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা টেট কেলেঙ্কারিতে জড়িত সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন কালনার এই বিধায়ক। তাঁর দাবি, স্বপন দেবনাথ (মন্ত্রী) থেকে শুরু করে তপন চট্টোপাধ্যায় (পূর্বস্থলি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক), অনুব্রত মণ্ডল (তৃণমূল জেলা সভাপতি, বীরভূম) সহ অনেক নেতারাই এই প্রাইমারিতে চাকরি করে দিয়েছেন তাঁদের পছন্দের লোককে।

তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে জবাব দিতেই গোপন তথ্য ফাঁস করলেন বিধায়ক!
দলবদলের পর থেকেই একাধিক বিষয়ে বিশ্বজিত কুন্ডুকে আক্রমণ শুরু করে শাসকদল তৃণমূল। বিশ্বাসঘাতকের তকমাও জোটে। সম্প্রতি এক জনসভা থেকে বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কালনা দু নম্বর ব্লক সভাপতি প্রণব রায়। তিনি নাম না করে কালনার বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, তৃণমূলে থাকতে নিজের চৌদ্দগুষ্ঠীকে প্রাইমারিতে চাকরি দিয়েছে, এরপর যদি বিজেপির বিধায়ক হয় তাহলে ওর বৌ এর পেটে যে বাচ্চাটা আছে তারও চাকরি হবে। অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ শানাতেই পালটা মুখ খুলতে শুরু করেন বিধায়ক। ব্লক সভাপতিকে একহাত নিয়ে বলেন, আমি আমার পরিবারকে টেটের চাকরি দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আরও ৬২ জন তৃণমূল নেতার পরিবারের সদস্য শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছে বলে দাবি তাঁর। পালটা আক্রমণে প্রবল চাপে শাসকদল তৃণমূল।

যদিও পালটা বিশ্বজিতকে 'চোর' বললেন অনুব্রত
এই প্রসঙ্গে বীরভুমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল বলেন, "উনি নিজে দুর্নীতিগ্রস্ত, চোর। আমাদের নাম দিয়ে যদি বাঁচা যায় সেই চেষ্টাই করেছে। সেই কারণেই আমাদের নাম করেছে। ওর চেয়ে বড় চোর কেউ নেই।" কার্যত অনুব্রত মন্ডলের সুরেই সুর মিলিয়েছেন স্বপন দেবনাথ। তাঁর দাবি, অভিযোগ করলেই তো হবে না, প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কি বলছে বিজেপি?
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, টেট নিয়ে কেলেঙ্কারি নতুন নয়। একাধিকবার বিজেপির তরফে এই বিষয়ে তদন্তের জন্যে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার মধ্যে কোনও অস্বচ্ছতা নেই। শুধু বিজেপি নয়, এতদিন এই কথা যাঁরা চাকরির পরীক্ষার্থী ছিলেন তাঁরা বলতেন, পশ্চিমবঙ্গের তরুণ-তরুণীরা, বেকার যুবক-যুবতীরা বলতেন, এখন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যিনি এসেছেন তিনি বলছেন। ফলে তৃণমূলের আমলে কোন স্তরে গিয়ে দুর্নীতি হয়েছে তা কার্যত পরিষ্কার বলেই মনে করন বিজেপির এই মুখপাত্র।












Click it and Unblock the Notifications