বাংলায় বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেস যুযুধান লড়াই আদিবাসী ভোট পেতে! কোন পথে এগোচ্ছে রণনীতি
বাংলার জনসংখ্যার ছয় শতাংশ রয়েছে আদিবাসী ভোটারদের দখলে। আর ২০২১ সালের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গ, বাঁকুড়ার একাধিক জায়গায় আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। এদিকে, আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে নিজের দিকে রাখতে কোমর বেঁধে এখন থেকেই ময়দানে নেমেছে বিজেপিও। একনজরে দেখে নেওয়া যাক যে আদিবাসী সমর্থন পেতে কোন ধরনের ছকের ব্লুপ্রিন্টে ভরসা রাখছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস ?

'বড়ফুল' বনাম 'ছোট ফুল' যুদ্ধ ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক
শোনা যায়, লোকসভা ভোটের সময় আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি প্রচার পর্বে 'বড় ফুল' এ অর্থাৎ পদ্মে ভোট দেওয়ার কথা বলে প্রচার পর্ব চালিয়েছে। এদিকে, সদ্য বাঁকুড়া সফরে গিয়ে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন 'বড়ফুলে একটিও ভোট দেবেন না..', সুর ধরে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার করেন মমতা। আর তার থেকেই প্রমাণিত যে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক এখন ঘাসফুলও পদ্মফুল দুই 'ফুল' শিবিরের কাছেই গুরুত্বের জয়গায় যাচ্ছে।

বিজেপি কোনপথে চেষ্টা করে চলেছে?
জানা গিয়েছে, বাংলার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা দেখে কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডার সঙ্গে আলোচনায় বসেন জন বার্লা। বাংলার বিজেপি সাংসদ জন বার্লা আদিবাসী সমস্যার কথা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন। আর সেই সমস্যাকে ইস্যু করে বিজেপি ময়দানে নামতে চাইছে বলে খবর।

কোন অস্ত্রে শান দিচ্ছে বিজেপি?
জন বার্লা আদিবাসীদের জন্য একটি স্পোর্টস অ্য়াকাডেমি, আরও একলব্য মডেল স্কুল ও ইন্ডোর স্টেডিয়ামের দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রের কাছে। আর কেন্দ্রের সরকারের তরফে এই সমস্ত উন্নয়ন যদি হয়ে যায়, তাহলে সেই খতিয়ানকে সামনে রেখেই প্রচারে মমতার বিরুদ্ধে পারদ চড়ানোর চেষ্টায় রয়েছে পদ্মশিবির। প্রসঙ্গত, বাংলায় ২,৫০০ টি আবাসিক স্কুল রয়েছে একলব্য মডেলের আওতায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আদিবাসীদের জন্য কর্মসূচি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কয়েকদিন আগেই জানিয়েছে যে আদিবাসী বর্ষীয়ানদের জন্য ১ হাজার টাকার পেনশন স্কিম চালু করবে বাংলার সরকার। পাশাপাশি, আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথা জানিয়েছে তাঁর সরকার।

আদিবাসীদের হিন্দুত্বে ধর্মান্তরিত প্রসঙ্গ ও বিজেপি
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রচারে জোরদার সওয়াল তুলছে যে, আরএসএস এর তরফে আদিবাসী সারনা /সারাঙ্গিদের জোর করে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো করেই জানেন যে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে বিজেপির সঙ্গেই। আর তার প্রমাণ লোকসভায় বাঁকুড়ার দুটি আসনই দখলে রেখেছে বিজেপি।

পরিসংখ্যান কী বলছে?
যে সমস্ত কেন্দ্রে আদিবাসী প্রার্থীরা ছিলেন লোকসভা ভোটে, সেই সমস্ত কেন্দ্রে ১৬ টির মধ্যে ১৩ টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। তপশিলী উপজাতির জন্য সংরক্ষিত দুটি আসন আলিপুরদুয়ার ও ঝাড়গ্রাম, দুটিতেই বিজয় নিশান উড়িয়েছে বিজেপি। এমন পরিস্থিতিতে ভোট ব্যাঙ্ক আঁকড়ে থাকার লড়াইতে যেমন বিজেপি, তেমনই তা ছিনিয়ে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মমতা শিবির।












Click it and Unblock the Notifications