একা ব্যর্থ, জয়েন্ট ফোরামের সঙ্গে যৌথভাবে পাহাড় বনধ সফল করতে মরিয়া মোর্চা
কয়েকটি বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ছাড়া পাহাড় বনধে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি মোর্চা। ব্যর্থ হয়ে তাই জয়েন্ট ফোরামকে ঢাল করে অস্তিত্ব রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর মোর্চা।
একা মোর্চার ডাকা পাহাড় বনধ ব্যর্থ হয়েছে। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া সোমবারের পাহাড় বনধ মালুমই হয়নি। মঙ্গলবার তাই জয়েন্ট ফোরামের সঙ্গে মিলে বিমল গুরুং-এর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা উত্তরবঙ্গের চার জেলায় সাধারণ ধর্মঘট সফল করতে মরিয়া। এদিন সকাল থেকে পাহাড়ে কিঞ্চিৎ হলেও প্রভাব ফেলেছে এই সাধারণ ধর্মঘট। দোকানপাট বন্ধ। সরকারি বাস ছাড়া কোনও পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। স্কুল-কলেজও বন্ধ। বন্ধ স্কুলে নেওয়া যায়নি পরীক্ষা। বাড়ি ফিরে যেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। শুনশান রাস্তাঘাটে সেভাবে লোকেরও দেখা পাওয়া যায়নি।
রাজ্য অবশ্য যথারীতি বনধের বিরোধিতায় সামিল। বনধকে বেআইনি তকমা দিয়ে প্রশাসনকে নামানো হয়েছে বনধ ব্যর্থ করে দিয়ে জনজীবন সচল রাখতে। সোমবার থেকে মোর্চা পাহাড়ে যে পিকেটিং শুরু করেছিল এদিন তা তুলে দেওয়া হয়। সরকারি অফিসগুলিতে যাতে উপস্থিতির হার পর্যাপ্ত থাকে, সেদিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি বাস চলছে। স্বাভাবিক রয়েছে ট্রেন চলাচলও। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধা সেনা নামিয়ে পাহাড় স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

সোমবার থেকে দুই দিনের চা বাগান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল জয়েন্ট ফোরাম। ন্যূনতম মজুরি-সহ একাধিক দাবিতে এই চা বাগান ধর্মঘট আংশিক সফল হয়। জয়েন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। মোর্চাও সেই বনধকে সমর্থন করে।
রাজনৈতিক মহল মোর্চার এই বনধ সমর্থনকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে ব্যাখ্যা করেছিল। জয়েন্ট ফোরামের ডাকা বনধকে ঢাল করে মোর্চা সাফল্যের পথে ফিরতে চাইছে। জয়েন্ট ফোরামের সঙ্গে মিশে গিয়ে মোর্চা পাহাড়ে বনধ পালন করতে পারলে অনায়াসেই সেই সাফল্য তুলে ধরতে পারবে। এর আগে মমতা একে একে সমস্ত অস্ত্র ভোঁতা করে দিয়েছে মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং-এর। এবার এই নয়া চালে মমতাকে তিনি পাল্টা দিতে পারে কি না তা-ই দেখার।
জয়েন্ট ফোরাম ও মোর্চার এই বনধে সব থেকে সংকটে পড়েছেন পাহাড়ের পর্যটকরা। পর্যটকরা সকাল থেকেই হোটেলবন্দি। দোকানপাট খোলা না থাকায় তীব্র সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। খাবার, জল সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পর্যটকই ফিরে গিয়েছেন। এখনও যাঁরা ফিরতে পারেননি তাঁরা ঘোর বিপাকে।












Click it and Unblock the Notifications