ভোটের আগে দরাজ হস্ত মমতা! রাজ্যবাসীকে কী কী 'ভেট' দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা?
বিধানসভায় ২ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকার ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট পেশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বার্ষিক ভাতা, পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি-সহ একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি দপ্তরগুলিতে শূণ্যপদগুলি পূরণ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রোড ট্যাক্সের উপর ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয় বাজেটে।

অমিত মিত্র অসুস্থত, বাজেট পেশ করলেন মমতা
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র অসুস্থতার কারণে বিধানসভায় আসতে পারেননি। তাঁর বদলে এবার রাজ্য বাজেট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বাজেট পেশ শুরু করতেই তুমুল হই হট্টগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভার ভিতরে। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ দেখান বিরোধীরা। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের উদ্দেশে অনুরোধ করেন, বাজেট পেশে সহযোগিতা করার জন্য।

মুখ্যমন্ত্রীর 'ভাষণ' শুনতে চাইলেন না বিরোধীরা
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করে যান বিজেপি বিধায়করা। এদিকে হই হট্টগোলের মধ্যেই ফের একবার শোনা যায় জয় শ্রীরাম ধ্বনি। মুখ্যমন্ত্রী কেন বাজেট পেশ করছেন, সেই অভিযোগ তুলে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলেন বিরোধীরা। অন্যদিকে বাজেটের নামে মুখ্যমন্ত্রীর 'ভাষণ' শুনতে নারাজ বাম-কংগ্রেসও। পরে বাম ও কংগ্রেস বিধায়করাও বাজেট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।

ভোটের আগে দরাজ মুখ্যমন্ত্রী
আজকের বাজেট পেশ করার সময় কার্যত ভোটের আগে দরাজ মুখ্যমন্ত্রী। ফের একবার কল্পতরু রাজ্য সরকার। তপশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষদের জন্য ২০ লক্ষ বাড়ি তৈরির ঘোষণা করা হয় বাজেটে। পাশাপাশি সমস্ত মাটির বাড়ি পাকা করে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এই প্রকল্পের জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৬ হাজার কোটি টাকা
পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলি, যেগুলি আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে না, সেগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলেও বাজেটে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। কৃষক-স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা করার কথাও ঘোষণা করা হয় বাজেটে।

শিক্ষার দিকে দেওয়া হয়েছে বাড়তি নজর
শিক্ষার দিকে দেওয়া হয়েছে বাড়তি নজর। চা বাগান এলাকাগুলিতে নতুন ১০০টি স্কুল তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। একইসঙ্গে তপসিল জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে ১০০টি নতুন ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কমপক্ষে 300 জন পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে বাজেটে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

৪৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্প, যা নিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়েছে, তা বাংলায় চালু করতে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নজর দেওয়া হয়েছে গ্রামোন্নয়নের দিকেও। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য।

সবক'টি গ্রামীণ রাস্তাকে রাজ্য সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগামী বছরের মধ্যে ১০ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সবক'টি গ্রামীণ রাস্তাকে রাজ্য সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আমরা শহরে চারটি নতুন উড়ালপুল তৈরি করব। এরমধ্যে একটি ই এম বাইপাসের থেকে নিউটাউন পর্যন্ত এবং একটি হবে পাইকপাড়া থেকে শিয়ালদা স্টেশন পর্যন্ত।'

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে একাধিক প্রকল্প
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্য স্তরে প্ল্যানিং কমিশন তৈরির পরিকল্পনার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, 'প্রত্যেক জেলায় জয় হিন্দ ভবন এবং নিউটাউনে আজাদ হিন্দ স্মারক তৈরি করা হবে।' পাশাপাশি দুয়ারে সরকার প্রকল্পের সুবিধার কথাও আজ বাজেট পেশ করার সময় আরও একবার তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications