আম্ফান দুর্নীতি মামলাতে রাজ্যের তদন্ত রিপোর্ট ফিরিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট! বলল আইওয়াশ
ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। আমফানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই মামলায় ফের আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রাজ্যকে। পঞ্চায়েত উপপ্রধানের বাড়িতে ত্র
ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। আমফানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই মামলায় ফের আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রাজ্যকে। পঞ্চায়েত উপপ্রধানের বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী রাখার অভিযোগ উঠেছিল।

পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে লাভ হয়নি বলে দাবি করেন গ্রামবাসীরা। পরে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। আজ ছিল সেই মামলার শুনানি। সোমবার সেই মামলায় রাজ্যের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের বক্তব্য, আদৌ সঠিক তদন্তই হয়নি। রিপোর্টটা নিছকই আইওয়াশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের তরফে এ দিন যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণ করেনি আদালত। পঞ্চায়েত উপপ্রধানের বাড়ির গোডাউনে মজুত করা ছিল কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী, যা আমফানের জন্য আনা হয়েছিল.
গ্রামবাসীদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ এফআইআর করলেও, কোনও নির্দিষ্ট ধারায় তদন্ত হয়নি। সেই ইস্যুতেই মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। তদন্ত রিপোর্ট দেখে এদিন রাজ্যকে কার্যত ভর্ৎসনা করে আদালত।
শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল বলেন, 'এ সব রিপোর্ট শুধুমাত্র আইওয়াশ করার জন্য দেওয়া হয়েছে।' ত্রাণসামগ্রী নিয়েও এ ভাবে দুর্নীতি হয়েছে দেখে আগেও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল। এ দিনও একই কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। রাজ্যের তদন্তের রিপোর্ট নিছকই 'আইওয়াশ' বলে তা ফিরিয়ে দেন তিনি। আগামী ২৭ শে সেপ্টেম্বর আবারও রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।
২০২০ সালে এই অভিযোগ প্রথম সামনে আসে। রাজ্যের তরফ থেকে বসিরহাটের ২ নম্বর ব্লকের আমফানে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। ওই ব্লকের ঘোরারস কুলীন গ্রামের ঘটনা। পাঁচটি ট্রাক ভর্তি ত্রাণ পাঠানো হয় তা বণ্টনের জন্য। পরে গ্রামবাসীরা অভিযোগ তোলেন সেই সামগ্রী ছিল ওই গ্রামের পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বাড়ির গোডাউনে। অন্যায়ভাবে সেই সামগ্রী মজুত করা হয় বলে দাবি করেন গ্রামবাসীরা। পরে মালতিপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে মোট দুটি ট্রাক বোঝাই ত্রাণ আটকে দেয় গ্রামবাসীরা। তারা অভিযোগ করে, ত্রাণ সামগ্রী পাচার হয়ে যাচ্ছিল ওই এলাকা থেকে। গ্রামবাসীদের তরফে এই অভিযোগ নকরা হয় মাটিয়া থানায়। স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআরও দায়ের রুজু করে পুলিশ। তারপরও গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির উপযুক্ত ধারা যোগ করেনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথমদিকে রাজ্যে আছড়ে পড়ে আম্ফান। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর তাতেই দুর্নীতির অভিযোগ।












Click it and Unblock the Notifications