মামলা নিয়ে প্রশ্ন বিচারপতি চন্দের! সিনেমার সংলাপ কীভাবে উস্কানি ছড়ায়? প্রশ্ন মিঠুনের আইনজীবীর
বিধানসভা ভোটের সময় উসকানিমূলক মন্তব্য। আর এই মন্তব্যের জেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ, মিঠুনের মন্তব্যে হিংসার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ। সেই মামলাতে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিজে
বিধানসভা ভোটের সময় উসকানিমূলক মন্তব্য। আর এই মন্তব্যের জেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ, মিঠুনের মন্তব্যে হিংসার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ। সেই মামলাতে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

আজ শুক্রবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় বিচারপতি কৌশিক চন্দে বেঞ্চে। শুনানিতে বিচারপতির প্রশ্ন, মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ রয়েছে? দীর্ঘ সওয়াল জবাব শেষে আগামী ২ জুলাই, বুধবার ফের এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
তবে এদিন শুনানিতে সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, নতুন করে মিঠুন চক্রবর্তীকে ফের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মিঠুনকে।
সোমবার ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে এদিন আদালতে শুনানিতে জানান সরকারি আইনজীবী। আইনজীবীর দাবিকে মান্যতা দিয়েই ফের শুনানির দিন ধারজ করে কলকাতা হাইকোর্ট।
তবে এদিন শুনানিতে মিঠুনের আইনজীবীর প্রশ্ন, সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিয়েই ছবি মুক্তি পায়। মিঠুন চক্রবর্তীর সংলাপ যদি উস্কানিমূলক হয়, সে ক্ষেত্রে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র মিলল কী ভাবে? এদিন দীর্ঘক্ষণ মামলা চলে কৌশিক চন্দের এজলাসে। বিচারপতি চন্দও সরকারি আইনজীবীর কাছে জিজ্ঞেস করেন, মিঠুনের বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ রয়েছে।
পালটা সরকারি আইনজীবী জানান, মিঠুনের সিনেমার বেশ কিছু ডায়লগ অশান্তি সৃষ্টি করে বাংলায়। পালটা বিচারপতির প্রশ্ন কি কি সংলাপ মিঠুন দিয়েছেন? সেটি বিস্তারিত জানালে কার্যত এজলাসের মধ্যে কিছুটা হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। এরপরে কার্যত এই মামলার যুক্তিযুক্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি চন্দ।
পালটা মিঠুনের আইনজীবী শুনানিতে জানান, '' সিনেমার সংলাপ কী ভাবে হিংসার কারণ হতে পারে? প্রচারে শুধু এই সংলাপ বলার জন্যই হিংসা হয়ে গেল?'' ''এ সব তো সিনেমার সংলাপ, যা সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েই মুক্তি পায়। সওয়ালে যুক্তি মিঠুন চক্রবর্তীর আইনজীবীর।
শুধু তাই নয়, তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এই ধরনের সংলাপ খারাপ হলে, সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্র দিল কী ভাবে? নির্বাচন কমিশনই বা নীরব রইল কেন?'' যদিও এই বিষয়ে পরে সরকারি আইনজীবী আরও তথ্য দেবেন বলে আদালতে জানাণ।
উল্লেখ্য, এই মামলাতে গত কয়েকদিন আগেই মিঠুন চক্রবর্তীকে দফায় দফায় জেরা করেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে চলে জেরা পর্ব। অন্যদিকে, গত কয়েকদিন আগে এই মামলাটিও বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে সরানোর আবেদন জানানো হয়।
এই এজলাসে নিরপেক্ষ শুনানি হওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে মামলা সরানোর আবেদন জানানো হয়। কিন্তু শেষমেষ কৌশিক চন্দের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলছে। উল্লেখ্য, বিচারপতি চন্দ বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ শাসকদলের।
তাই নন্দীগ্রাম নিয়েও দায়ের করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাও সরানোর আবেদন জানানো হয়। যদিও গণনাতে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া সেই মামলা বিচারপতি চন্দের এজলাসে শুনানি চলছে।












Click it and Unblock the Notifications