ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন ৫০ কিমি? বিএসএফ মামলায় কেন্দ্রকে হলফনামার দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে পঞ্জাব সরকার। কলকাতা হাইকোর্টেও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আজ মঙ্গলবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি
বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে পঞ্জাব সরকার। কলকাতা হাইকোর্টেও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আজ মঙ্গলবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে।

মামলার শুনানি শেষে কেন ক্ষমতাবৃদ্ধি তা জানিয়ে কেন্দ্রকে হলফানামা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। আগামী দুমাসের মধ্যে এই বিষয়ে জানানোর নির্দেশ আদালতের।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ পর সেই মামলার শুনানি। ফলে সেই মামলা কোনদিকে গড়ায় সেদিকেই নজর রাখা হচ্ছে।
পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে। সীমান্ত থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে যা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক নির্দেশিকা অনুসারে এই তিন রাজ্যে বিএসএফের এই ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আর এর ফলে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে তল্লাশি অভিযান চালাতে পারবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ইতিমধ্যে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পঞ্জাব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ তুলেছেন দুই রাজ্যের সরকারই।
এই বিষয়ে আরও একধাপ এগিয়ে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নালিশও জানিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবার পরামর্শ তাঁর। কিন্তু এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
আর এরপরেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আর সেই মামলায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। এই মামলার শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়।
তিনি তাঁর সওয়ালে জানান, বিএসএফের আইন অনুযায়ী কাজের জায়গা বাড়তে পারে। কিন্তু প্রথমে ১৫ কিমি ছিল। এরপর ৫০ কিমি হল। এরপর তো আরও বাড়তে পারে। ফলে এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন আইনজীবী। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওয়াইজে দস্তুর এই মামলার সওয়াল জবাবে অংশ নেন।
তিনি মামলাকারী আইনজীবীর সওয়ালকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করেন। বলেন, রাজস্থান এবং গুজরাত সীমান্তে ৮০ কিলোমিটার থেকে কমানো হয়েছে। ফলে কোন পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে তা জানা দরকার। এই বিষয়ে আদালতকে জানাবেন বলে জানান অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল দস্তুর।
শুধু কেন্দ্র নয়, এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের বক্তব্যও জানতে চান। অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে সময় চান। একই সঙ্গে পঞ্জাব সরকার এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। তবে কি আবেদন তা স্পষ্ট নয়।
এদিন প্রধান বিচারপতি সবপক্ষের বক্তব্য শুনে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। শুধু তাই নয়, পরবর্তী শুনানি ২২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছে হাই কোর্ট। ফলে সেদিন মামলা কোন দিকে গড়ায় সেদিকেই নজর সবপক্ষের।












Click it and Unblock the Notifications