১০ বছর পর ফের মমতা ঝুঁকছেন কংগ্রেসের দিকে, অন্তরায় হতে পারেন অধীর-সোমেনরা
২০১৯-এ বাংলাতেও ভরাডুবি হতে হয় তৃণমূলকে। তৃণমূল ৩৪ থেকে কমে ২২-এ নেমে আসে। বিজেপি দুই থেকে বেড়ে ১৮-তে উঠে যায়।
২০১৯-এ বিজেপিকে ফিনিশ করার ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সার্বিকভাবে মোদী বিরোধী জোট গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন তিনি। তার ফলে বাংলাতেও ভরাডুবি হতে হয় তৃণমূলকে। তৃণমূল ৩৪ থেকে কমে ২২-এ নেমে আসে। বিজেপি দুই থেকে বেড়ে ১৮-তে উঠে যায়। আর কংগ্রেস পায় দুটি আসন। এই অবস্থায় কংগ্রেস-তৃণমূল ফের কাছাকাছি আসার ভাবনা জন্ম নিয়েছে. অন্তরায় হতে পারেন অধীর চৌধুরী-সোমেন মিত্রদের মতো কেউ কেউ।

মমতার কৌশল বদল
লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার একটা কথা বলতেন, যেখানে যে শক্তিশালী, সেখানে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হোক। অর্থাৎ বাংলায় যেহেতু তৃণমূল সবথেকে শক্তিশালী, বাংলায় সব আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে তৃণমূল। কংগ্রেস বা সিপিএম তাদের সাপোর্ট করবে। মমতার এই আজব তত্ত্ব কেউ মানেননি। ফলে জোট নয় চতুর্মুখী লড়াই হয়েছে বহু আসনেই।

সার্বিক জোটই লক্ষ্য
এবার কিন্তু তৃণমূল অন্যরকম ভাবতে শুরু করেছে। তারা চাইছে ২০২১-এর নির্বাচনের আগে সার্বিকভাবে জোট গড়ে তুলতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ও সিপিএম উভয় দলকেই এই মর্মে প্রস্তাব দিয়েছেন। সরাসরি একটি অনুষ্ঠান থেকে এই বার্তা দেন মমতা।

সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠকের ভাবনা
বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়তে বেশি আগ্রহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যেই তিনি রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন পার্টি সাংসদদের। সেইমতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ দুই নেতা কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছেন।

অধীর-সোমেনরাই কাঁটা
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কংগ্রেসের মতো আমরাও বিজেপিকে মূল শত্রু হিসাবে দেখি। তাই একসঙ্গে পথ চলতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। একইসঙ্গে তিনি বলেন, লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র-সহ আরও অনেক নেতা তৃণমূলের তীব্র বিরোধিতা করছেন। "

রাহুল-সোমেন বৈঠকে
কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই অধীর চৌধুরীদের মমতা এবং তৃণমূলের প্রতি ‘নরম' হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইমতোই পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসও চাইছে প্রধান শক্র বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলের সঙ্গে রাজ্যে হাত মেলাতে। সম্প্রতি দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক প্রস্থ মিটিং হয়।

কংগ্রেস-তৃণমূল সমন্বয়
আধঘণ্টার মিটিংয়ে তৃণমূলের লোকসভার প্রধান হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি জানতে চান লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কাকে সবথেকে বড় শত্রু হিসেবে দেখেছিল। তা জানার পরই রাহুল কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলেন।












Click it and Unblock the Notifications