আর জি করের ছায়া পাঁশকুড়ায়! হাসপাতালেই ধর্ষণ, অভিযুক্ত ফেসিলিটি ম্যানেজার
আর জি কর কাণ্ডের পর বিভিন্ন হাসপাতালে নারী সুরক্ষায় একঝাঁক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিল রাজ্য সরকার। যদিও সমস্যা যে পুরো মেটেনি তা এবার স্পষ্ট হলো পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ঘটনায়।
এক মহিলা কর্মী ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন ওই হাসপাতালেরই ফেসিলিটি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। যার জেরে শোরগোল পাঁশকুড়ায়।

সরকারি হাসপাতালের ওই অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীকে ওষুধ দেওয়ার নাম করে ডেকে ধর্ষণ করা হয় অভিযোগ। অভিযোগ পেয়েই ঠিকাদার সংস্থার ফেসিলিটি ম্যানেজার শেখ জাইর আব্বাসকে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী ও অভিযুক্ত দুজনেরই একই সংস্থার মাধ্যমে ওই হাসপাতালে চাকরি হয়েছিল।
অভিযোগ, ওই তরুণীকে এর আগেও ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। মুখ বন্ধ রাখার জন্য চাপ দিয়ে ভয় দেখানো হতো, খারাপ ব্যবহার করা হতো। পাঁশকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগে ওই তরুণী দাবি করেছেন, গতকাল ফেসিলিটি ম্যানেজার তাঁকে ধর্ষণ করেছে। কাউকে না বলার জন্য হুমকিও দেয়। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসতেই পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
আজ ঘটনার কথা জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে পাঁশকুড়া হাসপাতালের কর্মীদের অনেকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অভিযুক্ত এর আগে অনেক মহিলার সঙ্গেই অশালীন আচরণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। নিজেকে প্রভাবশালী বলেও দাবি করতো সে।
ঘটনায় রাজনীতির রং লেগেছে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সিন্টু সেনাপতির দাবি, বছর দশেক ধরে নানা অবৈধ কাজকর্মে যুক্ত এই অভিযুক্ত। নিজকে পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা বলে জাহিরও করে। অবৈধ টেন্ডার থেকে ওষুধের বেআইনি কারবারে যুক্ত। মাথার উপর কারও হাত থাকাতেই তার বিরুদ্ধে এতদিন পদক্ষেপ হয়নি। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, অভিযুক্ত দলের কোনও পদাধিকারী নয়। দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাবশালী প্রমাণের চেষ্টা করলেও এর সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক নেই। ঘটনার নিন্দা করে কড়া শাস্তির পক্ষেই তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications