মমতার শপথ নিয়ে রাজভবন-বিধানসভা সংঘাত চরমে, অধ্যক্ষের ক্ষমতা খর্বে বিতর্ক
মমতার শপথ নিয়ে রাজভবন-বিধানসভা সংঘাত চরমে, অধ্যক্ষের ক্ষমতা খর্বের অভিযোগ
ভবানীপুরে বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়ার পরের দিনই রাজ্য ও রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠল। ভবানীপুরে জেতার পর বিধায়ক হিসেবে মমতা বন্যোালপাধ্যায়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে রাজভবন ও বিধানসভার মধ্যে। রাজ্যপাল নিজে শপথগ্রহণ করাতে চান মুখ্যমন্ত্রীকে। সেক্ষেত্রে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিধানসভরা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন, রাজভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হলে তাঁরা যাবেন না। এই বিতর্কের জেরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধাক হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিধায়ক হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নিতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
সোমবার এই মর্মে বিধানসভায় একটি বৈঠক হয়। বিধানসভার সচিবালয়ে রাজভবন থেকে আসা একটি বার্তা নিয়েই মূলত বৈঠকে বসেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের মুখ্য সচেতক তাপস রায়ও। তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয় শপথবাক্য পাঠ করানোর ব্যাপারে বিধানসভার স্পিকারের ক্ষমতা খর্বের বার্তা নিয়ে।
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজভবন থেকে একটি বার্তা এসেছে বিধানসভার সচিবালয়ে। এই চিঠিতে বলা হয়েছে, এবার থেকে নির্বাচিত বিধায়কদরে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল। কিন্তু কী কারণে এই সিদ্ধান্ত? তাও উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। সেখানে লেখা হয়েছে- সাংবিধানিকভাবে লোকসভার ক্ষেত্রে সাংসদদের শপথগ্রহণের দায়িত্ব দেশের রাষ্ট্রপতির। রাজ্য বিধানসভার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব রাজ্যপালের।
তবে সর্বক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল তাঁর মনোনীত ব্যক্তিকে সাংসদ-বিধায়কদের শপথগ্রহণের দায়িত্ব দেন। তাই লোকসভা বা রাজ্যসভার ক্ষেত্রে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার। স্পিকার নির্বাচন হয়ে গেলে লোকসভার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পান স্পিকার। আর বিধানসভার ক্ষেত্রে রাজ্যপাল সেই দায়িত্ব দেন বিধানসভার স্পিকারকে। রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপালের দেওয়া সেই ক্ষমতা এবার প্রত্যাহার করে চিঠি দেওয়া হয় বিধানসভার স্পিকারকে।
রাজভবন থেকে বিধানসভায় যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেই চিঠিতে স্পষ্ট করেই জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৮৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল এতদিন শপথগ্রহণ করানোর যে অধিকার স্পিকার বা বিধানসভার অধ্যক্ষকে দিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। আইনি বলে এই অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধায়ক হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করানো নিজেই করতে চান বলে জানান রাজ্যপাল। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই বিধানসভার অধ্যক্ষ ও পরিষদীয় মন্ত্রী শপথে যেতে নারাজ। তাঁরা চান মুখ্যমন্ত্রীর শপথ হোক বিধানসভাতেই।












Click it and Unblock the Notifications