মিথ্যা বলছেন, নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন মুখ্যমন্ত্রী, 'ঘোড়ার পাল' কটাক্ষে জবাব রাজ্যপালের
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যপালকে লাগাতার আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত আজ বুধবার নেতাজি ইন্ডোর থেকে চাঁচাছোলা ভাষায় জগদীপ ধনখড়কে আক্রমন শানান তিনি। বলেন, একজন ঘোড়ার পালকে এখানে পাঠিয়েছে ওরা। কার্যত এহেন মন্তব্যে চরম
চরমে উঠল রাজভবন এবং নবান্ন সংঘাত! গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যপালকে লাগাতার আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত আজ বুধবার নেতাজি ইন্ডোর থেকে চাঁচাছোলা ভাষায় জগদীপ ধনখড়কে আক্রমন শানান তিনি। বলেন, একজন ঘোড়ার পালকে এখানে পাঠিয়েছে ওরা। কার্যত এহেন মন্তব্যে চরম ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল।

এহেন মন্তব্যের কয়েক ঘন্টা পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। আর সেখানে মমতার এহেন মন্তব্যে রাজ্যপালের মন্তব্য, আমি স্তম্ভিত!
শুধু তাই নয়, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রত্যেকটা কড়া ভাষায় জবাব দেন জগদীপ ধনখড়। শুধু তাই নয়, অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে ইস্তফা দেওয়ারও হুঁশিয়ারি তাঁর গলাতে। এদিন তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ৯০০টিরও বেশি টুইট করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু কোনও টুইটের জবাব দেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীকে নাকি খারাপ ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, গালাগালি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানান, কোনও টুইটেই খারাপ কথা ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি কোনও দিনই তাঁকে খারাপ ভাষাতে আক্রমণ করা হয়নি বলেও দাবি রাজ্যপালের।
শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের কী করণীয় সে বিষয়ে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে মতামত দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাখ্যা তাঁর। কারন সাংবিধান পদে থাকার জন্যে বেশ কিছু দায়িত্ব তাঁর থেকে যায় বলেও মন্তব্য ধনখড়ের। অন্যদিকে তাজ বেঙ্গল ছাড়া নাকি খান না রাজ্যপাল।
এমনকি বিল বার করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গটিও এদিন তুলে আনেন ধনখড়। বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ,আমি রোজ তাজ বেঙ্গল খাবার নিয়ে আসি, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য তথ্যগত ভাবে ১০০ শতাংশ অসত্য।''
অন্যদিকে রাজভবনে একাধিক ফাইল আটকে রয়েছে বলেও মারাত্মক অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি রাজ্যপালের জন্যে নাকি বালি এবং হাওড়া পুরসভার মানুষ কষ্টে আছে বলেও অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, রাজভবনে কোন ফাইল আটকে নেই। যদিও বা কোনও ফাইল আটকে থাকে তাহলে সেই দায় রাজ্যের ঘাড়েই ঠেলে দিয়েছেন সাংবিধানিন প্রধান। তাঁর দাবি, ফাইলের বিষয়ে তথ্য রাজ্যের কাছে জানতে চাইলে উত্তর পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে মা ক্যান্টিন নিয়ে রাজ্যপালের করা প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, কেন ওনাকে কৈফিয়েত দেব? সাংবাধিক পদে থেকে টাকা উৎস কিংবা সমস্ত কিছু জানার অধিকার আছে বলে পালটা প্রত্যাঘাত জগদীপ ধনখড়ের।
তবে এদিন রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ করে রাজ্যপাল বলেন, বাংলায় কোনও আইনের শাসন নেই। শুধু তাই নয়, এমন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলেও এদিন তোপ দাগেন তিনি। বলেন, কোনও সঠিক তথ্য থাকলে আমাকে সরাসরি চিঠি দিন। গত আড়াই বছর ধরে আমি দায়িত্ব পালন করে গিয়েছি। গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনে আপনি ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী।
জবাব চেয়েছি কারণ আর্থিক তছরুপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর জবাব প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে দিতেই হবে। জনপ্রতিনিধি হিসাবে জবাব দেওয়া আপনার কর্তব্য। গণতন্ত্রে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হয় না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হয় বলেও তোপ রাজ্যপালের।












Click it and Unblock the Notifications