'গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আঘাত করেছে', মমতার 'রাষ্ট্রসংঘের তত্বাবধানে গণভোট' চাওয়া নিয়ে টুইট রাজ্যপালের
নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সিএএ-র বিরুদ্ধে সুর চড়াতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোট। এই মন্তব্য নিয়ে সিএএ বিরোধীরাও দ্বিধা বিভক্ত। এবার তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানালেন রাজ্যপাল ধনকড়। আজ বেশ কয়েকটি টুইট করে এই আবেদন জানান তিনি।
|
মর্মাহত রাজ্যপাল
বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, "রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে গণভোট চাইব।" তাঁর এই মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে টুইট করেন রাজ্যপাল । তিনি লেখেন, 'আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোপুরি সংবিধান বিরোধী এক মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো আঘাত পেয়েছে।'
|
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা
তিনি আরও লেখেন, 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯-এর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা হয়েছিল, তা খারিজ হয়েছে। আমি সকলকে বলব শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আন্দোলন করুন। যাতে জনজীবন ফের স্বাভাবিক হয়।'
|
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে টুইট রাজ্যপালের
রাজ্যপাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে আরও একটি টুইট করেন। সেখানে মমতাকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করে লেখেন, 'দেশের কথা আমাদের সবচেয়ে আগে ভাবা উচিত। আমি নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার অনুরোধ রাখবেন। একজন দেশবাসী হিসেবে ওনার মন্তব্যে আমি ব্যথিত।'

কী বলেছেন মমতা?
বৃহস্পতিবার কলকাতার রানি রাসমণি রোডের নাগরিকত্ব আইন বিরোধী এক এক সভা থেকে তিনি বলেন, "সারাদেশে এনআরসি ও সিএএ নিয়ে একটা গণভোট হোক। তবেই বোঝা যাবে দেশের মানুষ কী চায়। আর এই ভোট হবে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে।" এই মন্তব্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। ভারতের মতো একটা সার্বভৌম দেশ কী ভাবে নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাংবিধানিক পদে থেকে কী করে এই বিষয়ে এরকম মন্তব্য করতে পারেন।
|
'মমতার মনোভাব দেশের সংবিধান পরিপন্থি'
এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে রাজ্যপাল আজ সকালে আরও বেশ কয়েকটি টুইট করেন। তাতে তিনি লেখেন, 'আমি আমার দেশের প্রতিষ্টাতাদের কথা মাথায় রেখে তাঁকে আবেদন করছি যে তিনি যেই সংবিধানের সপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন, সেই সংবিধানের কথা মাথায় রেখে তাঁর এই মন্তব্য পেৎত নিক। দেশের একজন বরিষ্ট প্রবীণ নেতা হয়ে তাঁর মুখে এসব শোভা পায় না। তাঁর এই মনোভাব দেশের সংবিধান পরিপন্থি। কোনও মানুষ যে দেশকে ভালোবাসে, এই মনোভাবকে মেনে নিতে পারেন না। আমি নিশ্চিত তিনি তাঁর এই মনোভাব ও বক্তব্য নিয়ে আবার ভাববেন।'












Click it and Unblock the Notifications