ইদের কথা বলে পাহাড়ে বনধ শিথিল মোর্চার, কিন্তু পেছনের কারণটা কী
পাহাড়বাসীর রসদ ফুরিয়েছে। চাপ তৈরি হচ্ছে মোর্চার উপরও। বনধকে কেন্দ্র করে জনসমর্থন আরও তলানিতে নামছে। তাই কি বনধ শিথিল করে মোর্চা ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে?
ইদের জন্য শিথিল করা হল পাহাড় বনধ। সোমবার ১২ ঘণ্টার জন্য গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফে পাহাড় বনধ লঘু করার ডাক দেওয়া হয়েছে। ইদ উপলক্ষে এই ছাড় দেওয়া হলেও, পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । পাহাড়বাসীর রসদ ফুরিয়েছে। চাপ তৈরি হচ্ছে মোর্চার উপরও। এই বনধকে কেন্দ্র করে জনসমর্থন আরও তলানিতে নামতে পারে। তাই কি বনধ শিথিল করে মোর্চা পাহাড়বাসীর ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে?

এর আগে বোর্ডের পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বনধ শিথিল করেছিল মোর্চা। তারপর ফের তিনদিনের মধ্যে ইদ উপলক্ষে বনধ শিথিল করে পাহাড়বাসীকে সাময়িক স্বস্তি দিল গুরুং ব্রিগেড। আসলে এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণ। ইদের সম্প্রীতিকে সামনে রেখে পাহাড়বাসীর মনরক্ষা করাই এই বনধ শিথিলের উদ্দেশ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
মোর্চা-সহ পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বনধ শিথিল করার আর্জি জানিয়েছিল সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সংগঠন। সেই আর্জি অবশেষে মান্যতা পেল পাহাড় নিয়ে মোর্চার 'নাছোড়বান্দা' মনোভাবের কাছে। মোর্চা সুযোগ পেয়েই বনধ শিথিলের ডাক দিল নিজেদের স্বার্থে। ঘরে বাইরে কোণঠাসা বিমল গুরুং পাহাড়বাসীর ঘরে রসদ জোগাড়ের উপায় করে দিচ্ছেন এই বনধ শিথিলের মাধ্যমে। বনধ শিথিল হলে, যানবাহন চললে পাহাড়ে ঢুকতে পারবে ট্রাক। একদিন হলেও রফতানি, আমদানির সুযোগ মিলবে। পাহাড়ের সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে পূর্ণ মাত্রায়।
মাসভর রমজানের রোজার শেষে খুশির ইদ সোমবার। সেই খুশির উৎসবের আগে সংখ্যালঘুদের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই মাটি না হয়ে যায়, তা যেমন ভাবা হয়েছে বনধ শিথিল করার ক্ষেত্রে, তেমনই পাহাড়ের ঘরে ঘরে রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি যাতে বুমেরাং হয়ে না যায়, তাও বিবেচনা করা হয়েছে।
পাহাড়ে বনধ চলায় সঙ্কটে পড়েছিলেন পাহাড়বাসী মুসলিমরা। কেননা ইদকে কেন্দ্র করে উৎসবে মাতেন সংখ্যালঘুরা। চলে হরেকরকম কেনাকাটা। শুভেচ্ছা বিনিময়। আর তাতেই বাধার পাহাড় সৃষ্টি করেছিল পাহাড়ের বনধ। মোর্চা ইদের দিনে অন্তত বনধ লঘু করায় খানিক স্বস্তি মিলবে পাহাড়ের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের।
মোর্চা বনধ শিথিল করায় সোমবার সকাল থেকে যানবাহন চলবে। খুলবে দোকানপাটও। তবে স্কুল-কলেজ ও অফিস-কাঁচারিতে কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে ইদের জন্য বনধ শিথিল হওয়ায় পাহাড়বাসী এই সুযোগে রসদ সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছে। এখনও কবে পাহাড়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরবে কেউ জানেন না। পাহাড়ের মানুষ তাই রসদ সংগ্রহ করে রাখতে চাইছে। ব্যবসায়ীরাও এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর।
এদিকে রবিবার পাহাড় বনধ পড়ল ১৪ দিনে। এখনও থমথমে পাহাড়। যানবাহন চলছে না, দোকানপাট বন্ধ, শুনশান রাস্তাঘাট। সোমবার ইদের জন্য বিশেষ ছাড় মিললেও, রবিবার রথের জন্য কিন্তু ছাড় দেয়নি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। রবিবারও পাহাড়ে মিছিল বের করে মোর্চা। হিলকার্ট রোডে সেই মিছিল আটকায় পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে খণ্ডযুদ্ধ বাধে পুলিশের সঙ্গে। এরপর একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর করে মোর্চা সমর্থকরা। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সেনা নামিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়। এদিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে রয়েছে একই জায়গায়। মোর্চা গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অনড়, আর উল্টোদিকে রাজ্য সরকার বঙ্গভঙ্গ রুখতে কঠোর।












Click it and Unblock the Notifications