তিনশো বছরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখে আজও অমলিন গোবরডাঙার জমিদার বাড়ির পুজো
চলতি বছরে গোবরডাঙার জমিদারদের এই দুর্গাপুজো তিনশো বছরে পেরতে চলেছে। তাই পুজোর শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে।
'কথিত আছে টাকির জমিদারদের লাঠি, আর গোবরডাঙার জমিদারদের হাতি...' আজ সে সবই ইতিহাস কিন্তু কলকাতা সংলগ্ন ২৪ পরগনা জেলার এই দুই জমিদাররা ছিলেন খুবই বিত্তবান ও অত্যাচারী। চলতি বছরে গোবরডাঙার জমিদারদের এই দুর্গাপুজো তিনশো বছরে পেরতে চলেছে। তাই পুজোর শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে।

এখানকার ইতিহাস ঘেঁটে ও প্রবীণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অতীতে কলকাতা সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এই গোবরডাঙা এলাকাটি ছিল কুশদহ বা কুশদ্বীপের অন্তর্গত। কুশদ্বীপের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ছিল যমুনা নদী। একদা স্রোতস্বিনী যমুনা আজ অবশ্য নাব্যতা হারিয়ে মজে যেতে যেতে মৃতপ্রায়।
এদিকে গোবরডাঙার আদি বাসিন্দাদের বেশিরভাগই এসেছিলেন সপ্তগ্রাম থেকে। প্রায় চারশো বছরেরও পুরনো এই জনপদের ইতিহাস। কালের নিয়মে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও রীতি রেওয়াজ মেনে এখনও পুরানো প্রথাতেই পুজো হয় এখানে। গোবরডাঙা জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন তৎকালীন জমিদার ফেলারাম মুখোপাধ্যায়।

সেই থেকেই বংশপরম্পরায় পুজো হয়ে আসছে এখানে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ আর নেই সেই জমিদারী, নেই বিলাসিতাও। কিন্তু এই জমিদার বাড়ির প্রত্যেকটি ইঁটে এখনও সেই জমিদারী গন্ধ লেগে রয়েছে। বংশ পরম্পরায় পুজো করা পুরোহিত জানান, এখানে একচালের প্রতিমা। জন্মাষ্টমীর দিন ঠাকুর দালানে হয় কাঠামো পুজো। প্রতিপদ থেকেই ঠাকুর দালানে ঘট বসিয়ে পুজো হয়।

পুজোর আচার আগের নিয়মে থাকলেও শুধু বদলে গিয়েছে বলির প্রথা। পুজো ঘিরে সেই আগের মতো জৌলুস এখন এখানে না থাকলেও আনন্দের এতটুকুও ভাটা পড়েনি। পুজার ক'টা দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়রাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজোর কাজে সাহায্য করেন। সবাই এক সঙ্গে পুজো কাটান। ইতিহাস বিজড়িত এই বাড়ির পুজো দেখতে হাজির হয়ে যান আশেপাশের বহু মানুষ। সবমিলিয়ে ঐতিহ্য ও আন্তরিকতার মিশেলে বছরের পর বছর এই পুজো মানুষের মনে ছার ফেলে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications