৮০ দিন পরে পাহাড়ে উঠছে বনধ, বিনয়-বিমল বিভাজনে নতুন সমীকরণ
১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ দিনের জন্য বনধ স্থগিত রাখা হচ্ছে। শেষদিনে পাহাড়ে বৈঠক রয়েছে। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
দীর্ঘ ৮০ দিন পর পাহাড়ে বনধ প্রত্যাহার করে নিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। আগামিকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ দিনের জন্য বনধ স্থগিত রাখা হচ্ছে। শেষদিনে পাহাড়ে বৈঠক রয়েছে। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে মোর্চা নেতা বিনয় তামাং এই ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার পাহাড়ের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বারবার শান্তি ফেরানোর কথাই উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আর্জি জানান তিনি। এছাড়া বনধ তুলে নিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে কেন্দ্রের তরফেও পাহাড়ে শান্তি ফেরানোর কথা বারবার করে বলা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মোর্চা নেতৃত্বের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে। পাহাড় বন্ধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে মোর্চা নেতা-কর্মীরা।
অন্যদিকে বিমল গুরুং পাহাড়ে বসেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এখনই বনধ তোলা যাবে না পাহাড়ে।

তা সত্ত্বেও এদিন কালিম্পংয়ে বসে পাহাড়ের বনধ তুলে নেওয়ার যে ঘোষণা বিনয় তামাং করলেন তাতে মোর্চায় বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি একগুঁয়ে অবস্থান নিয়ে ও আত্মগোপন করে গুরুং যে নিজের পায়ের তলায় জমি হারাচ্ছেন, তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরকার ও পাহাড়ের দলগুলির বৈঠকের পরই অনেকে দোকানপাট খুলতে শুরু করেন। জাপ নেতা হরকাবাহাদুর ছেত্রী ও জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বাও সরাসরি বিমল গুরুংয়ের বিরোধিতায় মুখ খুলেছেন। পাহাড়ের মানুষ কী চান তার উপরে সবকিছু ঠিক হবে। কারও একার কথায় নয়, এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এরপর এদিন মোর্চা বনধ তুলে নেওয়ায় দুটি জিনিস স্পষ্ট হল। প্রথমত, এতদিনের বনধরে পর মোর্চা নেতৃত্বের প্রতি পাহাড়বাসীর সমর্থনে টান পড়ছে, কারণ পকেটে টান পড়েছে। এবং দ্বিতীয়ত, পাহাড়বাসীর মন বুঝে মোর্চা নেতারা গুরুংয়ের বিপরীতে হেঁটে আলোচনার পথ প্রশস্ত করছেন। তার ফলে আগামিদিনে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে বিনয় তামাংয়ের সম্পর্কের বিভাজন আর চওড়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।












Click it and Unblock the Notifications